• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৫ দুপুর

বাবা-মা'র ঝগড়া মেটাতে থানায় ৩য় শ্রেণির ছাত্র

  • প্রকাশিত ০৬:৫৫ সন্ধ্যা জুন ২৩, ২০১৯
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সুত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন

মা-বাবার ঝগড়া মেটা‌তে থানায় এসে পুলিশের পদক্ষেপ কামনা করেছে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র। গত বৃহসতিবার রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সুত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন।

তার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধায় কাঁদতে কাঁদতে থানায় আসে ওই তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্র। সে এসে জানায় তার বা বিনা কারণে তার মাকে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিদিনই তুমুল ঝগড়া হয়। এমনকি প্রায়ই তাদের মধ্যে এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

ওসি ওয়াজেদ তার ফেসবুক পোস্টে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "বিস্কুট খাওয়ার জন্য বলতেই বললো, থ্যান্ক্যু স্যার, বিস্কুট খাবো না। আর খাবেই বা কিভাবে? কান্না জড়িত কন্ঠে যে কিছু খেতে ইচ্ছে করে না। তাছাড়া প্রথমে একবার সৌজন্যতা দেখিয়ে না বলতেই হয়! ছোট্ট ছেলেটির মধ্যে সেই ভদ্রতাটুকু বেশ আছে লক্ষ্য করলাম।

 

ছেলেটির সাহসের তারিফ করতেই হয় ! গতকাল (বৃহস্পতিবার) কাঁদতে কাঁদতে থানায় আসে।

অভিযোগ, বাবা শুধু শুধু মা-কে সন্দেহ করে। আর এসব নিয়ে ঝগড়া ঝাটি, হাতাহাতি, যা দেখতে ভাল লাগে না ৩য় শ্রেনীতে পড়া দরিদ্র পরিবারের ছেলেটির। বাবা মায়ের ঝামেলা মিটানোর জন্য নিজে থেকেই থানায় আসে সে।

গতকালই তার বাবা মা-কে থানায় এনে কথা বলার জন্য অফিসার পাঠালেও পাওয়া যায়নি বাবাকে। 

আজ (শুক্রবার) তাঁর বাবা আর মা-কে ডেকে এনে বোঝানো হল যাতে তাদের কোনো আচরণের কারণে ছেলেটির স্বাভাবিক জীবনে কোন প্রভাব না পড়ে। ছেলেটিও খুব খুশি হল। যতটুকু বোঝা গেল ছেলেটি পারিবারিক শান্তি আর নিরাপত্তা চায়। চায় টেনশনমুক্ত থেকে সুন্দরভাবে পড়ালেখা করতে।

কথাবার্তায় অত্যন্ত মার্জিত আর শব্দ চয়নে মেধার মিশ্রণ। পারিবারিক দৈন্যতার মাঝেও ছেলেটির মাঝে বড় হওয়ার একটা আকুতি বেশ স্পষ্ট ! কাছে বসিয়ে নিচু স্বরে আর্থিক কোন সমস্যা আছে কিনা জিজ্ঞেস করতেই বললো, নেই স্যার। বুঝলাম এই ছোট ছেলেটির সামর্থ্য না থাকলেও আত্মসম্মানবোধে কোন ঘাটতি নেই।

আজ (শুক্রবার) ২য় দিনে তিনবার বলার পর একটা বিস্কুট হাতে নিলেও খেতে দেখলাম না। শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় বাবা মায়ের সামনেই নিজ থেকে চেয়ে নিল আমার ফোন নম্বর। ছোট্ট ছেলেটি খুব স্মার্টলিই বললো - স্যার, প্রয়োজনে আপনাকে ফোন দিবো। 

ছোট এই ছেলেটির আচরন আর কথাবার্তায় বিস্মিত না হয়ে পারিনি। মনে মনে ভাবলাম, এমন সাহসী আর স্মার্ট ছেলেই তো আমরা চাই। ওর কথাবার্তা আর আচরনে মনে হল ও যাবে অনেক দূর, ভাল কিছু পাবো আমরা ওর কাছ থেকে!"