• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৫ দুপুর

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

  • প্রকাশিত ০৯:৪৫ রাত জুন ৩০, ২০১৯
s
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশনের আয়োজনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : সৌজন্যে ।

সাভারের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম রহমান বলে, 'আমি খুব খুশি। কারণ, তারা আমাদের খাবার দিয়েছে এবং ছবি আঁকার জন্য রাবার, রং-পেন্সিল, কাটার ও স্কেল দিয়েছে ।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশনের আয়োজনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্র ও শনিবার ব্র্যাক স্যোশাল এন্টারপ্রাইজের (এডুকেশন) সহযোগিতায় সাভার ও গাজীপুরের চারটি ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 

প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের তাদের মনের গভীর আবেগ অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করা এবং চিত্রের মাধ্যমে তার প্রকাশ করা। 

প্রতিযোগিতা সংশ্লিষ্ট সব ধরনের উপকরণ বিতরণ করা হয় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশন-এর পক্ষ থেকে । 

আড়ং ডেইরি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়াসাজাম প্রতিযোগিতাটির সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করে। 

শুক্রবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশন এবং কাউন্সেলিং ইউনিটের প্রতিনিধিরা দুই এলাকার স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক সেশন আয়োজন করেন।   পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাবা-মাদের নিয়েও একটি আলোচনা সভা হয়। ওই আলোচনার বিষয় ছিল 'অভিভাবকত্ব'। পরদিন শনিবার চার স্কুলের ৮৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। 

সাভারের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম রহমান বলে, 'আমি খুব খুশি। কারণ, তারা আমাদের খাবার দিয়েছে এবং ছবি আঁকার জন্য রাবার, রং-পেন্সিল, কাটার ও স্কেল দিয়েছে । চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম।'

ফয়সাল হোসেন নামের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্য এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের কাছে বলে, 'গতকাল ক্লাসে আমরা এক ভিন্ন ধরনের গেমস খেলতে পেরেছি। আমাদের কাছে সেটা খুব আনন্দদায়ক ছিল। আজ আমি সহমর্মিতা প্রসঙ্গে একটি ছবি এঁকেছি। ছবি আঁকতে পেরে আমার দারুণ ভালো লাগছে।'

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত চিত্রকর্মগুলো নভেম্বরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনোভেশন এর পক্ষ থেকে 'রি-ইমাজিনিং এডুকেশন ফর সোসাইটি : এ সিম্পোজিয়াম ফর চেইঞ্জ-মেকারস' শিরোনামে জাতীয় পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

প্রতিযোগিতাটি ছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশন-এর স্কুল প্রচার কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। 'এম্পআর্টথেটিক : চলো সহমর্মীতা এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য আঁকি' এই শিরনামে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি তিনটি পরিসরে আয়োজিত হচ্ছে নির্বাচিত ব্র্যাক প্রথমিক বিদ্যালয়, ঢাকার বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সহযোগী কর্মীদের নিয়ে। 

অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে দুটি বিভাগ নির্বাচন করা হয়েছে। সাহিত্য এবং অভিনয় ও চিত্রকর্ম।  প্রত্যেকটির আবার পাঁচটি করে উপবিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে ।

‘স্কুল প্রচার কার্যক্রমে’র প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো-শিক্ষা, সহমর্মিতা ও উদ্ভাবনের সম্পর্ক নিয়ে সবাইকে গভীর চিন্তা ও কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং কীভাবে একটি শিশুর প্রারম্ভিক জীবনে আবেগ সংক্রান্ত শিক্ষার প্রবর্তন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অগ্রনেতা হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে সহায়ক তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।

সেন্টার ফর ইমোশনাল ইন্টেলিজেনস অ্যান্ড ইনোভেশন সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মীতা এবং ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেনসকে শিক্ষাব্যবস্থায় একিভূতকরণের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। এর কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গবেষণা, স্কুল প্রচার কার্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং সহমর্মিতা গবেষণাগার ও উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রম কেন্দ্র।