• রবিবার, মার্চ ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ রাত

সংসদে মনসুর : জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপস নেই

  • প্রকাশিত ১০:৪৮ রাত মার্চ ৭, ২০১৯
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

আজ বিকেলে মনসুরকে গণফফোরাম থেকে বহিস্কার করা হয়।

জাতীয় সংসদে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, ‘এই সংসদে ৯৯ শতাংশ হচ্ছে একজোটে, আর আমি অন্য জোট থেকে রাজনীতি করছি। কিন্তু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনও আপস নেই। বাংলাদেশ-জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু এক নামে পরিচিত।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। 

দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে— গণফোরামের এমন হুঁশিয়ারির পরেও শপথ গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, 'সব কথার উত্তর আমি দেবো না। কারণ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে সেসব সিদ্ধান্তের সময় আমিও ছিলাম। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাকে জানিয়েই আমি এটা করেছি।'

পরে বিকেলে মনসুরকে গণফফোরাম থেকে বহিস্কার করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

সংসদে সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে মনসুর বলেন, ‘আমার আজকে ওইখানে থাকার কথা ছিল। ওই জোটের (সরকারি দলের জোট) পক্ষেই তো আমি রাজনীতি করতাম। আজ থেকে ১৮ বছর আগে এই সংসদে আসার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রাজনীতির ছন্দপতনে আমি গত ১৮ বছর রাজনৈতিক কারাগারের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনও আপস নেই।’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে মনসুর বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। আজ থেকে ৫২ বছর আগে ১৯৬৭-৬৮ সালে স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় যে বিশ্বাস নিয়ে ও যার নামে স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম, সেই বিশ্বাস থেকে ব্যক্তিগতভাবে বিচ্যুত হইনি।’

‘জোটগতভাবে বা রাজনৈতিকভাবে বা আমার আজকের অবস্থানে হয়তো আমাদের নেতারা (আওয়ামী লীগের) ওই জোটে নেই, কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাসের জায়গা থেকে ৫২ বছর আগে নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থানে থেকে নির্বাচন করে এই সংসদে এসেছি।’

সুলতান মনসুর বলেন, ‘মহাজোটের বিরোধী শক্তি বিএনপিসহ অন্যরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এটা ঠিকই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতির পিতার অনুসারী সর্বস্তরের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এই সংসদে পাঠিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ‘এই সংসদে আমার নেতা আছেন। সহকর্মী আছেন। আমার কর্মীও আছেন। অনেক ভাই-বোনে আছেন। এখানে সংসদ নেত্রী আছেন, যার ঘনিষ্ঠ হয়ে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য এই সংসদে আজ যারা আছেন, তারা একই জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আমিই বোধহয় একজন নীলমণি—এই জোটের বাইরে অন্য জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনি এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। সরকার প্রধান হিসেবে সংসদ নেতাকে ধন্যবাদ জানাই, অন্তত আমার নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচনে সেভাবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোথাও ঘটেছে না ঘটেছে, তা অন্যদের বিবেকের আদালতে নিজেরাই বলতে পারবেন।’