• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

হানিফ : আসলাম বেগের চিঠিই প্রমাণ জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন

  • প্রকাশিত ০৭:৫৬ রাত এপ্রিল ১০, ২০১৯
বগুড়া শহরে জিলা স্কুল মাঠে বুধবার এক স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন হানিফ। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
বগুড়া শহরে জিলা স্কুল মাঠে বুধবার এক স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন হানিফ। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ব্রিগেড কমান্ডার আসলাম বেগ জিয়াউর রহমানকে একটি চিঠি দেন।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে লেখা পাকিস্তানের ব্রিগেড কমান্ডার আসলাম বেগের চিঠিই জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন বলে প্রমাণ করে। 

আজ বুধবার বিকেলে বগুড়া শহরে জিলা স্কুল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রয়াত সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মমতাজ উদ্দিন স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হানিফ।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছিলেন না। ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাসের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ব্রিগেড কমান্ডার আসলাম বেগ জিয়াকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন। তিনি (আসলাম) বলেছিলেন, 'তোমার কর্মকান্ডে আমরা খুশি। তোমার স্ত্রী-সন্তান আমাদের হেফাজতে আছে। জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন তার প্রমাণ আসলাম বেগের ওই চিঠি।' 

হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে দালাল আইন বাতিল ও রাজাকারদের পুনর্বাসন করতেন না। ১৯৭২ সালে লন্ডনে পালিয়ে গিয়ে গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনীতি করার সুযোগ দিতেন না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি কুখ্যাত রাজাকার শাহ্ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী ও আবদুল আলিমকে রেলমন্ত্রী করতেন না। আর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করতেন না।

জিয়া প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক-বিএনপির এ দাবি প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বগুড়ায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আর সে সময় জিয়া পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুই তার ৭ মার্চের ভাষণে এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাই জিয়া কখনও স্বাধীনতা ঘোষক হতে পারেন না। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। যা জিয়া নিজেও স্বীকার করে গেছেন।

বিএনপিকে সন্ত্রাসী ও খুনিদের সংগঠন দাবি করে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর ১ হাজার ২০০ মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে দেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করেন। তার ধারাবাহিকতায় স্ত্রী খালেদা জিয়া ও সন্তান তারেক রহমান বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতি করেন। তাদের নির্দেশে পেট্রোল বোমা মেরে ২৫০ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

হানিফ আরও বলেন, জামায়াত-বিএনপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জামায়াত এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। মানবতাবিরোধীদের রায় কার্যকর হলে পাকিস্তান পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। জামায়াত এখন দেশে পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজনীতি ও পাক আদর্শে বিশ্বাস করে। তাই তাদের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। বিএনপিও পাক আদর্শের রাজনৈতিক দল। তারা দেশকে ব্যর্থ করে পাকিস্তানের ঘাঁটি বানাতে চায়। তাই এদেশে তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মাসুদুর রহমান মিলন, বগুড়া-৫ আসনের এমপি হাবিবর রহমান, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন, জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।