• রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭ রাত

রংপুরে এরশাদের জন্য কবর খনন করেছেন নেতা-কর্মীরা

  • প্রকাশিত ০৭:০২ রাত জুলাই ১৫, ২০১৯
রংপুর এরশাদ কবর
রংপুরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জন্য কবর খুঁড়ছেন দলের নেতা-কর্মীরা ঢাকা ট্রিবিউন

‌‌'এরশাদ বলে গেছেন পল্লী নিবাসে তিনি মারা গেলে তাকে যেন সেখানেই সমাহিত করা হয়'

জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান সদ্য প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মহানগর জাতীয় পার্টি। নগরীর দর্শনা এলাকায় এরশাদের পল্লী নিবাস বাসভবনের পাশে তার বাবা মরহুম মকবুল হোসেনের নামে স্থাপিত হাসপাতাল এলাকায় লিচু বাগান চত্বরে এরশাদকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রংপুর সিটি মেয়র ও মহানগর জাপা সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে কবরের জায়গা নির্ধারণ এবং নিজেই মাটি কেটে কবরের খনন কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা নাগাদ কবর খননের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র।

কবর খননের কাজ শুরু করার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সিটি মেয়র বলেন, এরশাদ জীবিত থাকাকালে দর্শনা এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে দুটি স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন। এর একটি হচ্ছে তার বাবার নামে মকবুল হোসেন জেনারেল অ্যান্ড ডায়াবেটিকস হাসপাতাল এবং তার পাশেই ‘পল্লী নিবাস’ নামের বাসভবন। এরশাদ রংপুরে আসলে সার্কিট হাউজ বা অন্য কোথাও রাত্রি যাপন করতেন না, নিজের বাড়িতেই অবস্থান করতেন। 

মেয়র বলেন, ‘‘আমরা এমন জায়গায় এরশাদকে সমাহিত করবো যেখানে তিনি নিজ হাতে অসংখ্য লিচু গাছ রোপন করেছিলেন। তাকে সমাহিত করার পর বিশাল এলাকা জুড়ে মিউজিয়ামসহ মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। যাতে দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, বিদেশি মেহমানরা তার কবর জিয়ারত করতে পারেন সেজন্য সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা করা হবে।’ ’

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই জাপা নেতা বলেন, ‘‘এরশাদ বলে গেছেন পল্লী নিবাসে তিনি মারা গেলে তাকে যেন সেখানেই সমাহিত করা হয়। তাকে ঢাকার বনানীতে যেখানে সমাহিত করার কথা বলা হচ্ছে সেটা সেনানিবাস এলাকা, সেখানে সাধারণ মানুষ যেতে পারবে না। ফলে কেন একজন সফল রাজনীতিবিদ জনপ্রিয় নেতাকে জনগণের যাতায়াত নিষিদ্ধ এলাকায় দাফন করা হবে? আর সারা দেশের মানুষ এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা চান এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করতে। কারণ রংপুরে তার শৈশব-কৈশোর লেখাপড়া সব কিছু এখানে, তার বাবা-মায়ের কবর এখানেই আছে। তাছাড়া তিনি রংপুরের মানুষের প্রাণের থেকে প্রিয় নেতা। আমরা অনন্তকাল ধরে এরশাদকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই রংপুরে সমাহিত করতে চাই। এ জন্য যে কোনো মূল্যে আমরা এরশাদের মরদেহ রংপুর থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে দেবো না। প্রয়োজনে লাখো নেতাকর্মী রক্ত দেবে।’ ’

এদিকে, এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মকবুল হোসেন হাসপাতালে দিনব্যাপী কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার এরশাদের নামাজে জানাজা বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠানের জন্য নগর জুড়ে মাইকিং চলছে। একইভাবে প্রতিটি উপজেলায় এমনকি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য মাইকে প্রচারণা চলছে বলে জানান মহানগর জাপা সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির।

এদিকে, এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুর নগরীর সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। রংপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজও এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়েছে। রংপুর জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর জেলা জাপার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এরশাদের জানাজায় তিন লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন।