• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জাবি-জবিতে ছাত্রদলের মিছিলে ছাত্রলীগের বাধা!

  • প্রকাশিত ০৬:৪৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ৯, ২০১৯
ছাত্রদল

দুই জায়গাতেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর (জাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। দুই জায়গাতেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সা‌ড়ে নয়টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। মিছিলটি অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। 

জানা গেছে, সমাবেশ শেষে ফের মিছিল শুরু করেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে গেলে শাখা ছাত্রলীগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক রাফা তাদের কাছে যান। এসময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম দুইপক্ষকে শান্ত করে নিজের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ফটকের বাইরে চলে যান। এসময় মাহবুবুল হক রাফা লাঠি নিয়ে তাদের ধাওয়া দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, ‘‘আমরা আবরার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগের এক নেতা আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থানের বার্তা দিতে চাই।’’

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাবি ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল হক বলেন, ‘‘আমি সকালে ব্যক্তিগত কাজে রিকশায় করে প্রধান ফটকের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন অমর একুশের পাদদেশে তাদের কর্মসূচি চলছিল। আমি রিকশা থেকে নামতেই তারা দৌড়ে পালায়।’’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘‘গতকাল ছাত্রদল আমাকে ফোন করেছিল। আমি ক্যাম্পাসে অছাত্রদেরকে নিয়ে আসতে নিষেধ করেছিলাম। তারা আজকে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে শুনেছি। কিন্তু আমাকে জানায়নি। ধাওয়ার বিষয়েও কোনো অভিযোগ করেনি।’’

এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নেওয়া কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে ছাত্রদল।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনায় ছাত্রদলের দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় সমবেত হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে থেকে আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি অবকাশ ভবনের সামনে এলে পেছন থেকে ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জবি ছাত্রদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ এবং যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান শরীফকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জবি ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে নিয়মিত যাওয়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালায়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদেরও। আমরা ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসবো। এত কেউ বাধা দিল এর জবাব ক্যাম্পাসেই দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

দুইজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মওদুদ হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা ছাত্রদলের দুইজনকে আটক করেছি। তারা আমাদের হেফাজতে আছেন।