• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

বিএনপি : আবরারের রক্তে সরকারের পতনের বীজ রোপণ হয়েছে

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ রাত অক্টোবর ১২, ২০১৯
বিএনপি
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

খন্দকার মোশাররফ বলেন, 'কে এম নাজির উদ্দিন জেহাদ হত্যার মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছিল। আর আবরার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছে'

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডে সরকারের পতন বীজ রোপণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, "কে এম নাজির উদ্দিন জেহাদ হত্যার মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছিল। আর আবরার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছে।"

সমাবেশটির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। পুলিশের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে। 

খন্দকার মোশাররফ বলেন, "আবরার রক্ত দিয়ে সরকার পতনের যে আন্দোলনের সূত্রপাত করে গেছেন, আমার বিশ্বাস, সারাদেশের ছাত্রসমাজ, যারা দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী, তাদের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই রক্তের প্রতিশোধ নেবে। তার রক্ত বৃথা যেতে দেবে না। কয়েকদিন আগে আমরা শহীদ জিহাদ দিবস পালন করেছি। তার রক্তে সেইদিন এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের দিন শুরু হয়েছিল। আর আবরারের রক্তে এ সরকারের পতনের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এই দেশে বেশিদিন ফ্যাসিবাদ টিকতে পারবে না।"

মোশাররফ আরও বলেন, "খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশে কোনো দিন গণতন্ত্র মুক্ত হবে না।"

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, "ফেনী নদী থেকে গত ১০ বছরে ভারত জোর করে ৭২ কিউসেক পানি নিয়ে যাচ্ছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনী নদী থেকে পানি দেওয়ার চুক্তি করে এসেছেন। কিন্তু ভারত কী পরিমাণে পানি নেবে, তা পর্যবেক্ষণের কোনো তথ্য চুক্তিতে নেই। ভারতকে পানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার ফলে নদীর পাশের কৃষিকাজ ব্যাহত হবে এবং মুহুরী প্রজেক্ট পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু করেননি। এখানে আমাদের স্বার্থ কোথায়? সব স্বার্থ তো ভারতের।"

"ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর থেকে পণ্য দেরিতে খালাসের জন্য তাদের ক্ষতি হচ্ছে। সেখানে ভারতের পণ্য আমাদের বন্দরগুলো থেকে ছাড়া হলে আমাদের ব্যবসায়ীদের আরও ক্ষতি হবে। তাহলে ভারতকে পোর্ট ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে কীভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা হলো? আর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে বিদেশিদের রাডার স্থাপিত হলে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না। এখানে প্রধানমন্ত্রী কোন যুক্তিতে বলবেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে।" 

বিএনপির এই নেতা বলেন, "গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা এসব দেশবিরোধী চুক্তি করেছেন। কিন্তু দেশের জনগণ দেশবিরোধী এসব চুক্তি মেনে নেবে না।"