• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫ রাত

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ২২ গজ মাতাচ্ছেন টিটু-টুকু

  • প্রকাশিত ১০:১৫ রাত এপ্রিল ২৬, ২০১৯
টিটু টুকু সাতক্ষীরা
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ক্রিকেট মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সাতক্ষীরার টিটু-টুকু ঢাকা ট্রিবিউন

জন্মগতভাবেই মেহেদি হাসান টিটুর দুটি হাতই বাঁকা ও ছোট। আর মাত্র আট মাস বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি হাত চিকন এবং একটি পা বাঁকা হয়ে যায় কামরুজ্জামান টুকুর।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালবাসা তাদের। সুযোগ পেলেই ব্যাট-বল নিয়ে ছুটতেন খেলার মাঠে। ছুটছেন এখনও। ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর টান থাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও দমিয়ে রাখতে পারেনি তাদের।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জাতপুর বাজার এলাকার ফারুক হোসেন ও ছকিনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে মেহেদি হাসান টিটু (২৫) এবং একই উপজেলার নজরুল ইসলাম খান ও মোমেনা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে কামরুজ্জামান টুকু (৩০)। 

জন্মগতভাবেই মেহেদি হাসান টিটুর দুটি হাতই বাঁকা ও ছোট। আর মাত্র আট মাস বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি হাত চিকন এবং একটি পা বাঁকা হয়ে যায় কামরুজ্জামান টুকুর।

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মেহেদি হাসান টিটু শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও ক্রিকেটের টানে মাঠ ছাড়েননি কখনও। তার এই আগ্রহ সবার আগে নজরে এসেছিল তালা উপজেলার সুভাষিনি ক্লাবের কোচ শাহ বিল্লাহ'র। তার অধীনেই টিটুর ক্রিকেট জীবনের আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি হয়। তার কাছ থেকেই ক্রিকেটের খুঁটিনাটি শিখে নিয়েছিল সে। কোচের অনুপ্রেরণা পেয়ে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা আরও বেড়ে যায় টিটুর। 

২০১৩ সালে শাহ বিল্লাহর সহায়তায় সাতক্ষীরা একাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ পান টিটু। তাকে আরও পরিণত করে গড়ে তুলতে পরিশ্রম করেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রিকেট দলের কোচ মুফাসিনুল ইসলাম তপু। 

কোচদের পরিশ্রমের প্রতিদান দিয়েছেন টিটু। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগে আজাদ স্মৃতি সংসদের হয়ে মাঠে নেমে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন তিনি। ৩.৩ ওভার বল করে ১২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন এই লেগ স্পিনার।

একই বছরের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ড্রিম ফর ডিজেবিলিটি ফাউন্ডেশনের হয়ে ভারত সফর করেন টিটু। সেখানে ৩টি ম্যাচের মধ্যে ২টি পরিত্যক্ত হলেও একটি ম্যাচেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম তিনি। সেই ম্যাচে ৩ ওভার বল করে ৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। 

শুধু বল হাতেই নয়, দলের দুঃসময়ে অষ্টম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরির নিদর্শনও রয়েছে তার ক্যারিয়ারে।

ক্রিকেট আর নিজের সম্পর্কে টিটু বলেন, জন্মগতভাবেই আমার দুটি হাতই বাঁকা ও ছোট। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ক্রিকেটের মধ্যে আমি আলাদা আনন্দ খুঁজে পাই। আমি এটা উপভোগ করি এবং মাঠে নামলেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।  

অন্যদিকে, পোলিও রোগের কারণে ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বয়ে বেড়ানো কামরুজ্জামান টুকু ২০০২ সালে নওয়াপাড়া মাঠে বড় ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে গিয়ে স্পিনের ভেলকি দেখিয়ে সবার মন জয় করে। সেই ম্যাচে ৬ রান দিয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাননি তিনি। 

এলাকাভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন দক্ষতার সাথে। নিয়মিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সুযোগ পেয়ে যান সুভাষিনি ক্লাবে। কোচ শাহ বিল্লাহর অধীনে অনুশীলন করে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলেন এই অফ স্পিনার। 

ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন সাতক্ষীরায় চলমান ২য় বিভাগ ক্রিকেট লিগে তালা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার একাদশে।

প্রতিযোগিতামূলক এই লীগের অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়ান কামরুজ্জামান টুকু। ২ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। 

এছাড়া, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ফিজিক্যাল টিমে নিবন্ধনপত্র জমা দিয়েছেন টুকু। 

ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কামরুজ্জামান টুকু বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আশা করছি এর ধারাবাহিতকতা বজায় রেখে ন্যাশনাল ফিজিক্যাল টিমেও খেলতে পারব।