• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

৪৪ বছরের অপেক্ষার পর নাটকীয় জয়ে বিশ্বসেরা ইংল্যান্ড!

  • প্রকাশিত ১১:৪২ সকাল জুলাই ১৫, ২০১৯
বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ ফাইনালে জিতে ইংল্যান্ডের উন্মাদনা। ছবি: সংগৃহীত

যেদেশে ক্রিকেটের জন্ম, সেইদেশই বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখেনি এতদিন। প্রায় ৫ দশকের অপেক্ষার পালা অবশেষে ঘুচলো

সুপার ওভারে জোফরা আর্চারের শেষ বলে কিউই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল রান আউট হতেই স্কুল পড়ুয়া মার্টিন কাঁদলেন। এই অশ্রু আনন্দের। আরেক পাশে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তিন শিক্ষার্থী নিজের জামা খুলে উড়ালেন- যেন বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাইলেন, আমরাও পারি বিশ্বকাপ জিততে। বিশ্বমঞ্চে চতুর্থবার ফাইনালে উঠে শিরোপার আক্ষেপ ঘুচালো তারা। যেদেশে ক্রিকেটের জন্ম, সেইদেশই বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখেনি এতদিন। প্রায় ৫ দশকের অপেক্ষার পালা অবশেষে ঘুচলো।

রয়টার্স’র প্রতিবেদনমতে, এর আগে তিনবার খুব কাছে গিয়েও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে ইংল্যান্ডের। ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপে মাইক ব্রিয়ারলি, ১৯৮৭ বিশ্বকাপে মাইক গ্যাটিং ও ১৯৯২ বিশ্বকাপে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বে ফাইনাল খেলেছিল ইংলিশরা। তারা যা পারেননি সেটাই করে দেখালেন এউইন মরগান। তার নেতৃত্বেই প্রথম শিরোপা ঘরে তুললো ইংল্যান্ড। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে মরগানের নেতৃত্বে পুরো দল গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন, মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পতাকা উড়ালেন বিশ্বজয়ের আনন্দে। সাধারণত ইংলিশ সমর্থকরা গ্যালারিতে এমন চিৎকার চেচামেচি কমই করেন। কিন্তু শিরোপা জয়ের আনন্দে তাদের উৎসব যেন মাত্রা ছাড়ালো।

জিততে ৬ বলে ১৫ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ডের। এমন অবস্থায় দলকে অনুপ্রেরণা দিতে ‘কাম অন ইংল্যান্ড, কাম অন ইংল্যান্ড’ রব উঠে গ্যালারিতে। নিউজিল্যান্ডের দুর্ভাগ্য গাপটিলের লম্বা থ্রোয়ে ২ রানের সঙ্গে বাউন্ডারি আসায় ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২ বলে ৩ রান। জয় তুলে নিতে বেন স্টোকস এক পাশ থেকে চেষ্টা করে যান। কিন্তু পরপর দুটি রান আউটে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারেও রোমাঞ্চ। শেষ বলে প্রয়োজন ৩ রান। কিন্তু দ্বিতীয় রান তুলতে গিয়ে রান আউট হন গাপটিল। সুপার ওভারও টাই। কিন্তু ইনিংসে বাউন্ডারি বেশি থাকায় ম্যাচটি জিতে যায় ইংল্যান্ড। এমন রোমাঞ্চকর ফাইনাল এর আগে হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিটি মুহূর্তে ছিল দম বন্ধ করা উত্তেজনা। আগের ১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল কখনোই সুপার ওভার দেখেনি। এবার সেই রোমাঞ্চ সঙ্গী করেই ক্রিকেটের তীর্থস্থানে জয়কে নিজেদের করে নিলো ইংল্যান্ড।