• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৭ দুপুর

যেভাবে কাজ করে আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ইউনিট

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ বিকেল অক্টোবর ৩১, ২০১৯
আইসিসি
আইসিসি’র দুর্নীতিদমন ইউনিট দুবাইয়ের প্রধান কার্যালয় মিনহাজ উদ্দিন খান/ঢাকা ট্রিবিউন

এটি আইসিসি’র একটি নজরদারি বাহিনী হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে কোনও দুর্নীতি হলো কিনা সেটি অনুসন্ধান করে।এই ইউনিট মূলত বিভিন্ন দেশে সেখানকার ক্রিকেট বোর্ডের সাথে মিলে কাজ করে

বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে, এই দুইবছরের মধ্যে একবছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী কোডের তিনটি আইন লঙ্ঘনের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর এই শাস্তি ঘোষণা করে আইসিসি। তবে ভবিষ্যতে একই অপরাধ প্রমাণিত হলে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

তিনটি অভিযোগে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে এই শাস্তি দেয় আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ)। আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী বিধির ধারা ২.৪.৪-এ আনা সাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো:

১. ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে-শ্রীলংকা ত্রিদেশীয় সিরিজ অথবা ওই বছরের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আসরে অসদুপায় অবলম্বনের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি এসিইউ-কে জানাননি তিনি।

২. একই বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে পাওয়া অসদুপায় অবলম্বনের প্রস্তাবের কথাও এসিইউকে জানাতে ব্যর্থ হন তিনি।

৩. ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল আইপিএল আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচে অসদুপায় অবলম্বনের প্রস্তাবের বিষয়েও এসিইউকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া।


আরও পড়ুন: ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ সাকিব


সাকিবের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তখন থেকেই আলোচনায় যে প্রশ্নটি উঠে আসে, আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ)এর কাজের প্রক্রিয়াটি আসলে কী? 

এসিইউ-শাব্দিক অর্থে, দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট। এটি আইসিসি’র একটি নজরদারি বাহিনী হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে কোনও দুর্নীতি হলো কিনা সেটি অনুসন্ধান করে।এই ইউনিট মূলত বিভিন্ন দেশে সেখানকার ক্রিকেট বোর্ডের সাথে মিলে কাজ করে। যেমন, বাংলাদেশে যে টিমটি কাজ করে তাদের নাম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এসিইউ।

আইসিসি’র দুর্নীতিদমন ইউনিট দুবাই, তাদের অন্যান্য সকল ইউনিটের গোয়েন্দা তথ্য একসাথে করে সেগুলো নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ, এখান থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে সকল সিদ্ধান্ত আসে। আর এসিইউ দুবাইয়ের কার্যালয়টি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, সাবেক ব্রিটিশ পুলিশ সদস্য অ্যালেক্স মার্শাল।আইসিসি’র এসিইউ এর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে অ্যালেক্স ‘কলেজ অব পুলিশিং’এর সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস পুলিশের একটি পেশাদারী সংগঠন।   

সাবেক আইনজীবী, আইসিসি’র এসিইউ এর গোয়েন্দা বাহিনী ও তদন্তকর্মীরা দুর্নীতির অভিযোগগুলো ধারাবাহিকভাবে তদন্ত করে। কাজটি একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও কিছুক্ষেত্রে দেশীয় ইউনিটগুলোর সাথে মিলেই করা হয়।


আরও পড়ুন: যে ৩৬ ম্যাচ খেলতে পারবেন না সাকিব


আইসিসি’র দুর্নীতিদমন ইউনিটের দুর্নীতিদমনে নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজাররা সারা পৃথিবীতেই নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব হলো সকল ইউনিটের সাথে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সমন্বয়সাধনে সহায়তা করেন।   

ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের এই অভিজ্ঞ তদন্তকারীরা আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের শিক্ষা, সচেতনতা দিয়ে থাকে এবং একইসাথে, বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এছাড়া, তারা সকল ভেন্যুতে খেলোয়াড় ও ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত জায়গার ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

যখন কোনও তদন্তের বিষয় সামনে আসে, আইসিসি’র দুর্নীতিদমন ইউনিটের কোনও তথ্য না প্রকাশ করার এখতিয়ার থাকে। এমনকী, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড ও এরসাথে জড়িত কোনও ব্যক্তির কাছ থেকেও তথ্য প্রকাশ না করার অধিকার তাদের থাকে। এরফলে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে একটি নিশ্ছিদ্র তদন্ত নিশ্চিত হয়। যদিও তদন্তকাজ শেষ হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকে না। 

কোনও নির্দিষ্ট তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হলে সেটিও কাউকে জানতে দেওয়া হয় না। তবে শুধুমাত্র প্রয়োজন মনে করলেই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটবোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করে আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট-এসিইউ।    


আরও পড়ুন: 'সাকিবের জন্য কোনো সমবেদনা নেই, আরও শাস্তি উচিত ছিল'