• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৯ রাত

হার্ডডিস্ক নয়, এবার তথ্য জমা রাখবে ডিএনএ!

  • প্রকাশিত ০৩:০৩ বিকেল আগস্ট ৩০, ২০১৯
ডিএনএ
প্রতীকী ছবি পেক্সেলস

মাইক্রোসফটের মতো তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিএনএ-র মধ্যে তথ্য জমা রাখার প্রক্রিয়ায় বিশাল বিনিয়োগ করছে

ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ডিভিডি, ব্লু রে’র পর মেমরি স্টিকের যুগ এলো৷ এখন সলিড স্টেট ডিস্কের মধ্যে এক টেরাবাইট বা তারও বেশি তথ্য জমা রাখা যাচ্ছে৷ কিন্তু তাতেও যেন সন্তুষ্ট নন ব্যবহারকারীরা৷ এবার ডিএনএ-র মধ্যে বিশাল পরিমাণ তথ্য ভরার চেষ্টা চলছে৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, অন্য কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে যৌথভাবে এমপিথ্রি-র মতো ডিজিটাল ফাইল সংরক্ষণের এমন একটি প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন জুরিখ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের প্রফেসর রোব্যার্ট গ্রাস। যার আওতায় কৃত্রিম জিনোমের মধ্যে তথ্য রাখা যায়৷

একটি ডিএনএ অণু এ, সি, টি এবং জি নামের চারটি নিউক্লিয়াসের ভিত্তিতে তৈরি৷ শূন্য ও এক দিয়ে তৈরি বাইনারি কম্পিউটার কোডগুলি একটি করে ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত৷ তারপর এক সিন্থেসাইজার ডিএনএ-র কৃত্রিম স্ট্র্যান্ড বা শৃঙ্খল সৃষ্টি করে৷ তার ওপর কম্পিউটার ফাইল সংরক্ষণ করা হয়৷ পরে কোনো এক সময় তা খোলা সম্ভব৷

এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল৷ মাইক্রোসফটের মতো তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিএনএ-র মধ্যে তথ্য জমা রাখার প্রক্রিয়ায় বিশাল বিনিয়োগ করছে৷

রোব্যার্ট গ্রাস বলেন, “প্রতি বছর কম্পিউটারের ধারণক্ষমতা ও গতি বেড়ে চলেছে৷ আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি৷ একইসঙ্গে আমরা জানি, যে বর্তমান কম্পিউটারের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের একটা সীমা রয়েছে৷ অনন্তকাল ধরে সেই ক্ষমতা বাড়িয়ে চলা সম্ভব নয়৷ সে কারণে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প জীববিদ্যা বা রসায়নের ক্ষেত্রে গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিচ্ছে৷ এই সব জগতে তথ্য সংরক্ষণের কায়দা অনুকরণের চেষ্টা চলছে৷ এমন চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে ডিএনএ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷”

গবেষকরা বলছেন, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডিএনএ অনুকরণযোগ্য হতে পারে৷ কারণ মানবজাতির মধ্যে চিরকাল নিজস্ব জিনোম বিশ্লেষণের আগ্রহ থাকবে৷ তাই ভবিষ্যতেও ডিএনএ বিশ্লেষণ করার যন্ত্র থাকবে৷ তাছাড়া ডিএনএ অণুর বিস্ময়কর আয়ুর বিষয়টিও ভুললে চলবে না৷ প্রাচীন বরফের নীচে ম্যামথ বা অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, যে হাজার হাজার বছর ধরে ডিএনএ অক্ষত থাকতে পারে৷

কিন্তু সমস্যা হলো, একমাত্র আদর্শ পরিবেশেই হাড়ের মধ্যে জিনগত তথ্য অবিকৃত থাকে৷ এমনকি ল্যাবেও কয়েক মাসের মধ্যে ডিএনএ অণু নষ্ট হয়ে যায়৷ রোব্যার্ট গ্রাস মনে করেন, “এক ধরনের কৃত্রিম জীবাশ্ম এই সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ আসলে আমরা হাড়ের বৈশিষ্ট্য নকল করার চেষ্টা করছি৷ এক টুকরো ক্যালসিয়াম ফসফেটের মধ্যে ডিএনএ থাকে৷ আমরা অতি ক্ষুদ্র কাচের বল তৈরি করেছি, যার মধ্যে ডিএনএ স্ট্র্যান্ড বা শৃঙ্খল বসানো রয়েছে৷”

কাচের মধ্যে সংরক্ষণ করে ডিএনএ হাজার বছর ধরে অক্ষত রাখা যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ কাচের এই গ্লোবিইউল বা ক্ষুদ্র বল একমাত্র ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখা সম্ভব৷ প্রত্যেক গ্লোবিইউলের মধ্যে ১০ কিলোবাইট তথ্য রাখা যায়, যা দুটি হরফের সমান৷ রোব্যার্ট গ্রাস বলেন, “এই ছবিতে একটি বইয়ের বিশ বা ত্রিশটি পাতা দেখা যাচ্ছে৷ তবে মনে রাখতে হবে, যে এই সব কণা দুই লাখ গুণ বড় করে দেখানো হচ্ছে৷ সেগুলি সত্যি অত্যন্ত ক্ষুদ্র৷ জুম কমিয়ে এই বিশ থেকে ত্রিশ পাতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে এলে পর্দার মধ্যে একটা গোটা বই দেখা যাবে৷ আরও পিছিয়ে এলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে পুরো একটা লাইব্রেরি পর্দার মধ্যে ধারণ করা সম্ভব হবে৷”

আপাতত এভাবে কয়েকশো মেগাবাইট জমা রাখা যাচ্ছে৷ এক কণা ডিএনএ-র মধ্যে গোটা লাইব্রেরি ভরতে এখনো আরও অনেক কাজ বাকি৷