• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

গ্রাহকদের অভিযোগে ভেঙে পড়ছে উবার সেবা

  • প্রকাশিত ১২:৩৭ দুপুর সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
উবার
ছবি প্রতীকী। বিগস্টক

যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে উবার চালকদের বিরুদ্ধে

রাজধানীর বাসিন্দাদের নানা খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে স্বস্তি দিতে বছর তিনেক আগে অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার। কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও যথাযথ তদারকি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সেবার মান হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বিশ্বখ্যাত কোম্পানিটি গুণগত সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ঢাকার ভয়াবহ যানজটের সাথে তাদের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ও আন্তর্জাতিক মানের সেবার সাথে আপোস ঘটিয়েছে।

অযোগ্য ও নিম্নমানের যানবাহন নিবন্ধন করা, যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে অস্বীকার করা, সময় নষ্ট করার পর তাদের যাত্রা বাতিল করতে বলা, যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে উবার চালকদের বিরুদ্ধে।

গত ২২ আগস্ট এক উবার চালকের বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুসসালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এমএম গোলাম শওকত নামে এক ব্যক্তি।

জিডিতে ওই ব্যক্তি লেখেন, তিনি উবার থেকে নামার সময় ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মালামালসহ একটি ব্রিফকেস নিতে ভুলে গেছেন। পরে তিনি চালককে ফোন দিয়েও তা ফেরত পাননি।

ইউএনবির সাথে আলাপকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ইউএনবিকে জানান, তিনি এখনো টাকা বা মূল্যাবান জিনিসপত্র কোনোটাই ফিরে পাননি।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ইউএনবিকে জানান, উবার কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে জবাব না দেওয়ায় তারা এখনো ওই চালককে ট্র্যাক করতে পারেননি।

তিনি বলেন, “আমি নিজে ওই চালকের সাথে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রত্যেকবার তার নম্বর বন্ধ পেয়েছি। পরে আমি উবারের উত্তরা অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছি,  কিন্তু তারাও এখনো ওই চালকের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।”

২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশে চলতে শুরু করে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা উবার। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সম্প্রতি ইউএনবি’র সাথে আলাপকালে অনেক ব্যবহারকারী কোম্পানিটির সেবা নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন।

উবারের সেবা নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি বলেন, “এদের এমন অনেক গাড়ি আছে যেগুলো রাইড শেয়ারের জন্য উপযোগী নয়। যাত্রাপথে অনেক সময়ই বিকল হয়ে যায় আবার অনেক চালক গাড়িতে এসি ছাড়তে চান না।”