• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৭ দুপুর

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া যেভাবে ঠেকাবেন

  • প্রকাশিত ০৪:৩৭ বিকেল অক্টোবর ২২, ২০১৯
হ্যাকার
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

আপনার অ্যাকাউন্টে যদি অন্য ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে একটা কোড নোটিফিকেশন আসবে। তখন আপনি জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অ্যাকাউন্টটি যদি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে ভোগান্তির শেষ নেই।

অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন অনেকে। সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন।

তাই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

কখন বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি নিজেও পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ইমেইল বা পোস্ট যেতে থাকবে। তখন আপনি বুঝবেন আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেওয়া হচ্ছে সেক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

তাৎক্ষনিক করণীয়

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সেক্ষেত্রে জরুরি সেবার যে নম্বর ৯৯৯ রয়েছে সেখানে জানাতে পারেন।


আরো পড়ুন - ভোলার এসপির ফেসবুক আইডি হ্যাকড!


এছাড়া, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কারো অ্যাকাউন্ট থেকে জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো আপনি করছেন না।

যেভাবে হ্যাক হয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে একটা ‘প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহার করা হয়। যেমন- অপরিচিত বা পরিচিত বা কৌতুহলোদ্দীপক ঠিকানা থেকে আপনার কাছে একটা ইমেইল পাঠানো হল। এটাকে বলে ‘ফিশিং’ ইমেইল। সেখানে কিছু ছবি বা ফাইল থাকতে পারে বা লিঙ্ক থাকতে পারে।

আপনি সেখানে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে একটা সফটওয়্যার ঢুকে যায় এবং আপনার কার্যক্রমগুলো মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

তখন দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে একজন, যে সফটওয়্যারটি নিয়ন্ত্রণ করছে, তার কাছে আপনার তথ্যগুলো চলে যায়।

এভাবে সোশাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যেমন হ্যাক করা যায়, তেমনি অন্য ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা যায়।

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন

ফেসবুক, ইমেইল বা গুগল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করার জন্য এতদিন বলা হতো যত শক্তিশালী বা জটিল বর্ণ, ডিজিট দিয়ে করা যায় ততই নিরাপদ। কিন্তু সে ধারণা এখন পাল্টে গেছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলছেন, এখন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেটা দিয়ে পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব। সে জন্য দুই ধাপে পাসওয়ার্ড ভেরিফাই করা যায় এমন ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।


আরো পড়ুন - ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি!


সুমন আহমেদ বলেন, “যেমন আপনি যদি টু ফ্যাক্টর ফিচার ব্যবহার করেন সেটা নিরাপদ করবে আপনার অ্যাকাউন্টকে।”

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আপনার অ্যাকাউন্টে যদি অন্য ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে একটা কোড নোটিফিকেশন আসবে। তখন আপনি জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার আপনি নিজে যদি অন্য ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি নিজেই চেক করে অনুমোদন দিয়ে অ্যাকাউন্টটি চালু করতে পারেন।”

অপরিচিত ইমেইল, লিংক এড়িয়ে চলা

যদি আপনার ফেসবুকে কোনো লিংক আসে, সেটা মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও হতে পারে, সেটা এড়িয়ে চলুন।

সাবির বলেন, আমাদের কৌতুহল একটু কমাতে হবে। যে কোনো লিংক বা ইমেইলে অ্যাটাচমেন্ট থাকলে সেটা ক্লিক করার আগে বা খোলার আগে সচেতন করতে হবে।

যেমন আপনার পরিচিত একজন বন্ধু আপনার কাছে একটা লিংক পাঠালো যেটা তার স্বভাববিরুদ্ধ হতে পারে। তখন আপনি সেটা তার সাথে কথা না বলে ক্লিক করবেন না। হতে পারে আপনার ঐ বন্ধুর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে এবং অন্য কেউ সেই লিংকটি পাঠিয়েছে।

লিংক বা ফাইল খোলার ফল

লিংক বা ইমেইলে থাকা অ্যাটাচমেন্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ম্যালওয়ার থাকতে পারে যেটা আপনার ডিভাইসে ঢুকে আপনার ডিভাইসের তথ্য চুরি করতে পারে।


আরও পড়ুন: ভোলার ঘটনা নিয়ে পুলিশ যা বলছে 


তবে আপনি যদি কোনো ইমেইল খুলে কী লেখা আছে সেটা পড়তে থাকেন অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করে সেক্ষেত্রে এই ম্যালওয়ারটি আপনার ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহারে সাবধানতা

যে কোনো ধরনের সফটওয়্যার যে কোনো ডিভাইসে ইন্সটল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সফটওয়্যার এবং অ্যাপগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ব্যবহার করতে হবে।

যে কোনো স্থান থেকে যদি আপনি সফটওয়্যার এবং অ্যাপ ডাউনলোড করেন তাহলে আপনি নিজেকে বিপদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবেন নিজেকে।

সেটিংস পরিবর্তন করা

আপনি যেসব ডিভাইস ব্যবহার করেন সেসব ডিভাইস এর সেটিংস অপশনে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় নিরাপত্তার জন্য পরিবর্তন করতে হবে যেমন লগইন অ্যালার্ট চালু করা, লগইন অ্যাপ্রুভাল চালু করুন ইত্যাদি।

আপনাকে যাতে কোনো ছবি বা পোষ্টে কেউ আপনার অনুমতি না নিয়ে ট্যাগ না করতে পারে সেই অপশনটা চালু করতে হবে।

এতে করে অন্যের কাজের দায়ভার আপনার নিতে হবে না। আর আপনি নাও চাইতে পারেন কোনো পোষ্ট বা ছবি আপনাকে ট্যাগ না করুক ফেসবুকে। আপনি যখন অ্যাপ্রুভ করবেন তখনি কেবল সেটা আপনার টাইমলাইনে আসবে।