যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে চারজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। লেবার পার্টির ৮০ জনের বেশি এমপি কিয়ের স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানালেও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
তবে, স্টারমারের পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন লেবার এমপিদের একটি অংশ। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের রাজনীতি নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।
বুধবার (১৩ মে) দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ডাউনিং স্ট্রিটে কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এক সহযোগী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, “তার কর্তৃত্ব অপূরণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, লেবার পার্টির নেতৃত্ব সংকট এবং দলে তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই স্ট্রিটিং বুধবার সকালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে আসেন।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ব্রিটেনের সরকার থেকে সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রী জুবাইর আহমেদ। তিনি ব্রিটিশ সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি লেবার পার্টির বিপর্যয়কর স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের জন্য স্টারমারকে দায়ী করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘একটি সুশৃঙ্খল ও দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের’ মাধ্যমে তার বিদায়ের জন্য একটি সময়সূচী নির্ধারণের আহ্বান জানান।
কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগ বা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো লেবার এমপির সংখ্যা বেড়ে এখন ৮৬ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ এ আহ্বানে যোগ দিয়েছেন অ্যান্ড্রু কুপার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এখন প্রধানমন্ত্রীর উচিত কবে তিনি সরে দাঁড়াবেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার সময়সূচি দেওয়া।”
স্টারমারের জায়গায় কে আসতে পারেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম তালিকায় রয়েছে।
তবে স্ট্রিটিং বা রেনার, কেউই এখনো এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। আর বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন, কারণ গত জানুয়ারিতে তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতে স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। সে নির্বাচনে লেবার পার্টি ৪১২টি আসনের মাঝে ১৭৪টিতে জয়লাভ করেছিল। বর্তমানে দলটির আসন সংখ্যা ৪০৩টি। স্টারমার ২০২০ সাল থেকে লেবার পার্টির নেতা।
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের ১৫ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে চাইলে স্টারমার তার আগেই নির্বাচন ডাকতে পারেন।



