প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে গলা কেটে হত্যা, বাবাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ মেয়ে মীরা আক্তার আছমাকে হত্যার দায়ে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে আসামিদের অনুপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লব এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন- করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া গ্রামের জহিরকোনা এলাকার নিহত মীরা আক্তার আছমার বাবা আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, চাচা খুরশিদ মিয়া ও চাচাতো ভাই সাদেক মিয়া। এই ঘটনায় অপর আসামি আছমার মা মোছা. নাজমুন্নাহারকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, খুরশিদ মিয়া, সাদেক মিয়া ও নাজমুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছিল।

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর রাতে আনোয়ারুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে নুরুল ইসলামের পতিত জমিতে বাঁশঝাড়ের নিছে অপর আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার নিজ মেয়ে আছমাকে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার পরে আসামিরা প্রতিপক্ষের নামে করিমগঞ্জ থানা একটি হত্যা মামলা করে।

তবে মামলার তদন্তে বের হয়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মামলার বাদীরাই তাদের মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে করিমগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দত্ত বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ ৬ আগস্ট এই রায় দেন আদালত।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অনামিকা রেজা রোজি ও রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এপিপি মাজহারুল ইসলাম।