রাজশাহীর দুর্গাপুরে বাংলার গায়েন রিয়েলেটি শো’র কণ্ঠশিল্পী তরিকুল ইসলাম ডালিম ওরফে গামছা ডালিম (৩৬) বৈদ্যুতিক কাজ কতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।
তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের হরিপুর গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে। ডালিমের স্ত্রী ও ছোট দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তরিকুল ইসলাম ডালিম দুর্গাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন অফিসে সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে মাস্টারোলে চাকরি করতেন।
ডালিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, পারিবারিকভাবে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, “জীবন গাড়ির নাইরে ব্যাক গিয়ার”—মাত্র তিনদিন আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এ কথাগুলো লিখেছিলেন বাউল ডালিম। তার ঠিক পরদিনই আপলোড করেন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের একটি ছবি। কে জানত, এমন এক ট্রান্সফরমার মেরামত করতে গিয়েই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমাবেন তিনি!
নিহতে চাচা সাইদুর রহমান জানান, ডালিম বরেন্দ্র অফিসের একজন ইলেকট্রিশিয়ান। বৃহস্পতিবার সে শ্রীপুর গ্রামে একটি গভীর নলকূপ ডিপ টিউবওয়েলে বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সে সমস্য সমাধানের জন্য সেখানে যায়। এরপর সেই ডিপের ছাদের ওপরে লোহার মই দিয়ে কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে যায় মইটি। এসময় সে ছিটকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশি রঞ্জু বলেন, নিহত ডালিম, বাউল গামছা ডালিম নামে পরিচিত। তিনি ছোটবেলা থেকেই গান-বাজনা নিয়ে থাকতেন। দেশে অনেক গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। বেসরকারি বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলেও গান করেছেন তিনি। আরটিভি রিয়েলেটি শো বাংলার গায়েন প্রতিযোগিতায় তিনি ৩০তম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে, এমন ঘটনায় শিল্পী সমাজ ও উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাদ এশা রাত ৯টায় জানাজা শেষে নিহতের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি সারাতে গিয়ে হঠাৎ একটি সার্কিটে শক লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই পাশের ধানক্ষেতে ছিটকে পড়েন ডালিম। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি।
ডালিমের অকাল মৃত্যুতে দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় শিল্পীরা জানিয়েছেন, লোকজ সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। গানের চর্চা করে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।