অভিযোগ না নেওয়ায় বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হলেও পরে অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়ে দর্শক সারিতে বসিয়ে রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তার অভিযোগ শুনানি না করেই অনুষ্ঠান শেষ হয়।
রবিবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শহিদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত এই গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ শোনার জন্য এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। এজন্য সপ্তাহখানেক ধরে মাইকিং করে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ জমা নিচ্ছিল দুদক। এসব অভিযোগ নিয়ে আজ গণশুনানি শুরু হয়। শুনানি চলাকালে বেলা ১১টার দিকে দর্শক সারিতে থাকা ছাকোয়াত হোসেন নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী সরাসরি অভিযোগ জানাতে চান। তবে সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন দুদক কর্মকর্তারা। অভিযোগ দিতে না পেরে ক্ষোভে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। অবশ্য সেই জুতা শেষ পর্যন্ত মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হলেও পরে অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়ে দর্শক সারিতে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তার অভিযোগ শুনানি না করেই অনুষ্ঠান শেষ হয়।”
অবশ্য জুতা নিক্ষেপের বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না জানিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘জুতা নিক্ষেপের ঘটনা কোথায় ঘটেছে? এ রকম কিছু আমি শুনিনি, দেখিনি।’’
গণশুনানিতে মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘‘বগুড়ার সন্তান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খ্যাতি ছিল তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না, তিনি দুনীতি প্রশ্রয়ও দিতেন না। বগুড়াবাসী কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। দুদক কর্মকর্তারা কী করছেন, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখতে হবে, যাতে কেউ দুনীতিগ্রস্ত হয়ে না পড়েন। কাজ হোক বা-না হোক, কেউ ঘুষ দেবেন না। সরকারি চাকরি যারা করেন, সেবাপ্রত্যাশীদের কাজ তাদের করতেই হবে, কাজ না করার কোনো বিকল্প নেই।’’
জুতা নিক্ষেপ করা ছাকোয়াত হোসেন পেশায় একজন মৎস্যচাষি। তার বাড়ি বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে।
তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও বিল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেন তিনি। ২০১২ সালে তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গারামারা গ্রামে ৩টি বিল ও ৩টি পুকুর বার্ষিক ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। ২১ লাখ টাকা খরচ করে মাছ ছাড়েন। স্থানীয় বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ১৭ মে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নানের ছোট ভাই ও সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লিটন একটি বিশাল বিল জবর দখল করেন। এসময় তার ২১ লাখ টাকার মাছও লুট করে নেন তারা। এ নিয়ে প্রশাসন, পুলিশ থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার কমিশন ও সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাননি। গত জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাননি। বাধ্য হয়ে বগুড়ায় দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ দিতে এসেছিলেন।
মৎস্যচাষি ছাকোয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘‘সব দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও বিচার পাইনি। মানবাধিকার কমিশন দুবার আমার পক্ষে রায় দিলেও কোনো কাজ হয়নি। দুদকের এ গণশুনানি শুধু লোকদেখানো। এ আক্ষেপেই আমি জুতা নিক্ষেপ করেছি। এতে যদি আমার জেল হয় হবে, আমি তাতেও প্রস্তুত।”
অভিযোগের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি হয়ত সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করেননি। তাই তার অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত নই।”