রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পার্কিংয়ে রাখা একটি প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে সোমবার দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতদের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, এখনও হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তদন্ত চলছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে রমনা থানা-পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে লাশ নিতে আসেন নিহত দুইজনের স্বজনরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা।
জাকিরের পরিবারের অভিযোগ, দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য পল্টনের একটি ট্রাভেল এজেন্সিকে দালালের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা দেন জাকির। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও টাকা ফেরত দেয়নি এজেন্সি। চলতি মাসের ১০ আগস্ট টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর পরদিনই জাকির ও তার বন্ধুর মরদেহ উদ্ধার হয়।
জাকিরের বাবা মো. আবু তাহের বলেন, “টাকা ফেরতের দাবিতে চাপ দেওয়ায় আগেও জাকিরকে মারধর করা হয়েছিল।”
তাদের ধারণা, ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্টরাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
মিজানুরের স্বজনরা জানান, তিনি মাছের খামারের ব্যবসা করতেন এবং কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না। প্রায়ই জাকিরের সঙ্গে যাতায়াত করতেন তিনি।
পুলিশ বলছে, সিআইডি ও বিশেষজ্ঞ দল সিসিটিভি ফুটেজসহ সব দিক খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্ত শেষে ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাড়িটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়ির যাত্রীদের সম্পর্কে বলা হয়, 'গাড়িতে রোগী আছে'। তবে দুদিন ধরে গাড়িটি পার্কিং থেকে বের না হওয়ায় সোমবার নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির কাছে গিয়ে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।