দেশে দারিদ্র্যের হার গত তিন বছরে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক জরিপে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩%, যেখানে ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭%। একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়ে ৫.৬% থেকে ৯.৩৫% পৌঁছেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের এসব তথ্য প্রকাশ করে গবেষণা সংস্থাটি।
পিপিআরসি জানায়, দারিদ্র্যের পাশাপাশি সাধারণ পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি ও শিক্ষার ব্যয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯.৫৯% পরিবার জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াকে তারা জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে ৬৪.৫৫% পরিবার শিশুদের শিক্ষার মান নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে, এর মধ্যে ৫২.০১% বিশেষভাবে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া ৪০.২২% পরিবার আয়ের ঘাটতিকে, ২৮.৬৬% মূলধনের অভাবকে এবং ২৮.৭৬% ভবিষ্যতে সন্তানের বিবাহ ব্যয়কে বড় দুশ্চিন্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ও বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ৫১.৬৫% পরিবার ওষুধের দামকে, ৫০.৬৪% চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়কে এবং ৪৮.৭% অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্টকে বোঝা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সামাজিক সমস্যার মধ্যে মাদকাসক্তি (৫৫. ৯৭%), কিশোর অপরাধ (৫৪.৫২%) এবং পারিবারিক-পাড়াপড়শির বিরোধ (৪৩.১৩%) শীর্ষে রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সুশাসনের দুর্বলতাও বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে- যেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতাকে উল্লেখ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উত্তরদাতা।
দেশের আট হাজারেরও বেশি পরিবারের ওপর করা এই সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, মূল্যস্ফীতি, সীমিত কর্মসংস্থান ও সুশাসনের দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।