সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধিতে যমুনা নদীর নাব্যতা ফিরেছে

বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাছে যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা ফিরতে শুরু করায় বন্ধ হওয়া যাওয়া কয়েকটি নৌরুট সচল হয়েছে। এতে নৌরুটগুলোতে আগেরমতো কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরগুলো ডুবতে শুরু করায় মাঝিরা অনায়াসে নদীতে চলাচল করতে পারছেন। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য সহজেই নৌপথে পরিবহন করছেন। এতে জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন আগেও তীব্র নাব্যতা সংকট ছিল। এ জন্য উপজেলার সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ প্রধান নৌরুটটি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিআইডব্লিটিএ কালিতলা নৌঘাটে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ শুরু করে নৌপথটি সচল রেখেছিল।

এছাড়া নাব্যতা সংকটে মাদারগঞ্জ নৌঘাটও দুর্গম ধূ ধূ বালুচরে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে যাত্রীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে চলাচল করতেন। নাব্যতা সংকটে উপজেলার আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া খেয়াঘাট, নিজবলাইল খেয়াঘাট, চারালকান্দি খেয়াঘাটসহ বেশ ক’টি খেয়াঘাটের নৌরুট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব নৌরুটে এলাকাবাসী পায়ে হেঁটে চলাচল ও ঘোড়ার গাড়িতে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করেছে। নাব্যতা সংকটে যমুনার বুকে জেগে ওঠা ডুবোচরে মাঝিরা নৌকা চালাতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেন।

তবে গত কয়েকদিন ধরেই যমুনার পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার প্রায় সবগুলো নৌরুট সচল হতে শুরু করেছে। জেগে ওঠা চরগুলো আবার ডুবতে শুরু করায় যমুনা নদীতে এখন নৌকাগুলো অনায়াসে চলাচল করতে পারছে। গত কয়েক মাস ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া খেয়াঘাটে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য অনায়াসে নৌকায় পরিবহন করতে পারছেন। সারিয়াকান্দি-জামালপুর নৌরুট দিয়ে খুব সহজেই নৌকাগুলো চলাচল করতে পারছে এবং এ নৌপথে আগের চেয়ে যাত্রী চলাচল বেড়েছে।

এছাড়া, পানি বৃদ্ধিতে শুকিয়ে যাওয়া যমুনা নদীর বেশ কিছু খাল পুনরায় সচল হতে শুরু করেছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়া পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার যমুনা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৯.৬৩ মিটার, শুক্রবার পানির উচ্চতা ছিল ৯.৭৫ মিটার এবং শনিবার পানির উচ্চতা ছিল ১০.০২ মিটার। অর্থাৎ গত তিন দিনে সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি ৩৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ উপজেলায় যমুনার বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার। অর্থাৎ পানি এখনও বিপৎসীমার ছয় মিটার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের আলতাফ আলীর খেয়াঘাটের মাঝি আলতাফ আলী বলেন, “যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে নৌরুটি গত তিন মাস ধরেই বন্ধ ছিল। যাত্রীরা এ নৌপথে হেঁটে চলাচল এবং কৃষকরা অধিক ভাড়ায় ঘোড়ার গাড়িতে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করেছেন। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে গত ১০ এপ্রিল থেকে এ নৌপথ পুনরায় সচল হয়েছে। এতে তার নৌঘাটে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ফলে কৃষকদের ভোগান্তি কমেছে, তারা এখন নৌপথে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন করছেন।”

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যমুনা নদীর নাব্যতা কিছুটা ফিরে এসেছে। খুব শীঘ্র এ পানি কমতে শুরু করবে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।”