মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের অন্যান্য জেলার মতো কক্সবাজারেও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলের অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ডিজেল সংকটের পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে প্রায় ৪,০০০ সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে এবং বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। জেলার চকরিয়া উপজেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন তেল বিক্রি বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়ায় সেচ পাম্প মালিক ও যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, ফলে কৃষি ও পরিবহন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, ঈদগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া ও সদর উপজেলায় সেচপাম্প আছে ৭,১৪৬টি। এর মধ্যে ৫-২০ ঘোড়ার গভীর পাম্প ১০টি, ১-৫ ঘোড়ার শ্যালো পাম্প ৪,৮৫২টি এবং ৫-১০ ঘোড়ার এলএলপি (লো লিপ পাম্প) আছে ২,২৮৪টি। ৭০% পাম্প ডিজেলচালিত, অবশিষ্ট ৩০% বিদ্যুৎ ও ২টি ডিজেল দিয়ে চলে। কিন্তু জ্বালানিসংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পাম্প চালানো যাচ্ছে না। তাতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার সোনাইছড়ি এলাকার কৃষক মোক্তার মিয়া, নুরুল আমিন, আবুল খায়েরসহ অনেকে জানান, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে, সরকার বলছে দেশে মোট জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুত ও কালোবাজারির কারণে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন এ বিষয়ে অভিযান জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।