গোপালগঞ্জে বিএনপির এমপি হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। তার এ মনোনয়নকে ঘিরে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছে ।

সোমবার (২০ এপ্রিল)  সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয়  বিএনপি। এই তালিকার ২০ নম্বরে  রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের (ঠাকুর) নাম।

সুবর্ণা ঠাকুর শ্রীধাম ওড়াকান্দির পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। তিনি মতুয়া মহা-মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি। এছাড়া ওড়াকান্দি মীড উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।

সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর) বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, এতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছামতো ওই তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি কখনও সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং-মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি।”

তিনি বলেন, “এ কারণে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে আমি কখনো গ্রহণই করিনি। আমার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। আমি একজন শিক্ষক। আমার পেশাগত ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বাংলাদেশসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে আমাকে যেতে হয়, তাই রাজনীতির ওই বিষয়টি আমি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি। রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আসলে ছাত্রজীবন থেকেই। খুলনা সিটি কলেজে পড়াশোনার সময় আমি বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। সেই সময়ের কিছু প্রমাণও রয়েছে, যেমন পত্রিকায় আমার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।”

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত কমিটির ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে  সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নারী সংসদ সদস্য হতে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে তখন তিনি জোর লবিং করেন। এ নিয়ে বক্তব্য দেন। তার সেসময়ের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন। এখন তিনি অস্বীকার করে থাকলে ঠিক করছেন না। নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন। তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন পদধারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, দলে নতুন কেউ আসতেই পারেন, কিন্তু দীর্ঘদিন অন্য দলের সক্রিয় রাজনীতিতে থেকে হঠাৎ এসে মনোনয়ন পাওয়া দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবিচার। যারা বছরের পর বছর নানা প্রতিকূলতা, দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সংগ্রাম করেছেন তাদের অবদান উপেক্ষা করা হলে, দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।