বিস্ফোরক মামলার আসামি হলেন ৪ বছর আগের মৃত তরুণ

রাজশাহীতে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় এমন এক তরুণকে আসামি করা হয়েছে, যিনি চার বছর আগেই মারা গেছেন। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখল নিয়ে ২৩ এপ্রিল ঘটা বোমাহামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে মো. সনি (১৮) নামের ওই মৃত তরুণকে।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সনি ২০২২ সালের ৩ জুলাই নিজ জন্মদিনে মহানগরীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে অপহৃত হওয়ার পর খুনের শিকার হয়েছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ে চলতি বছরের ১২ মার্চ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

২২ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনার জেরে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিকে লাঞ্ছিত করেন সাধারণ শ্রমিকরা। তারা কার্যালয়ে তালা দিয়ে নির্বাচন দাবি করেন। পরদিন ২৩ এপ্রিল বিকেলে পাখির অনুসারীরা কার্যালয় পুনর্দখলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ৮-১০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন দেখা যায়।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় ২৪ এপ্রিল বোয়ালিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। এর মধ্যে শাহজাহান আলী নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় রফিকুল ইসলাম পাখিকে প্রধান আসামি এবং তাঁর মৃত ছেলে সনিকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, “আমরা তো স্থানীয় না, নিয়মিত বদলির মধ্যে থাকি। মামলার বাদী যখন নাম দিয়েছেন, তখন তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি ৩ নম্বর আসামি মৃত। এ বিষয়ে গত রবিবার আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বোমাবাজির ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামি শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ওদিকে মামলার বাদী শাহজাহান আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।