ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান


জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের করা ব্যক্তিগত ও আদর্শিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তিনি এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, “শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি পার্সোনালি আমাকে অ্যাটাক করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব—এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম কোনো অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন।”

বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি অনুরোধ করব মাননীয় স্পিকার, তাঁর এই অসংসদীয় অংশটা এখান থেকে যেন এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করা হয়। তিনি (ফজলুর রহমান) আলোচনার শেষে যা বলেছেন, তাতে আমি ব্যথিত। একজন প্রবীণ ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করিনি।”

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জামায়াত-জোট ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিতর্ক সংসদের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।