হামে আক্রান্ত হয়েছে এমন শিশুদের ৭৪ ভাগই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার দু্ই ডোজের একটিও পায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারাও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১২% রোগী সম্পূর্ণ টিকা পেয়েছে এবং হামের উপসর্গ রয়েছে এরকম রোগীদের মধ্যে ৫৯% টিকার কোনো ডোজ পায়নি। এছাড়া ১৯% নিয়েছেন মাত্র একটি ডোজ, যা টিকা প্রদান কার্যক্রমে গুরুতর ঘাটতিকে তুলে ধরেছে।
এদিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৯০% মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতার কারণে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, "গত ৫ এপ্রিল একযোগে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যে তিন সপ্তাহ পার হয়েছে। যেসব উপজেলায় এই কর্মসূচি চালানো হয়েছে, সেখানে নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা যাচ্ছে, মে মাসের শেষ নাগাদ হামের প্রকোপ কমে আসতে পারে।"
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হামে শিশু মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্তে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি আরও জানান, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। বর্তমানে সব হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু থাকায় আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তবে খুব শিগগিরই সংক্রমণের হার কমিয়ে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে বলে আশাব্যক্ত করেছেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৪,৯৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে অন্তত ৪৭ জন শিশু হাম সংক্রমণে মারা গেছে। এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৩৫,৯৮০টি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০,৮২২ জন চিকিৎসা নিয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছে।