গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী মে মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অক্টোবর মাসে রাজধানীতে বড় ধরনের ‘মহাসমাবেশ’ করার পরিকল্পনাও রয়েছে জোটের।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
সাত বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে হামিদুর রহমান বলেন, ‘চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২ মে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল হবে। ১০ মে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১১ দলের সেমিনার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলা ও মহানগরীতে সেমিনারগুলো অনুষ্ঠিত হবে। নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ মে রাজশাহীতে, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
এছাড়া ১০ মে চট্টগ্রামে ১১ দলের উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে প্রতিটি জেলা ও মহানগরীতেও এ ধরনের সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।
জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সরকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করছে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইলেও ক্ষমতায় এসে তারা জনগণের মতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। সংবিধান সংস্কারের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেয়নি, অথচ এখন সংবিধান সংশোধনের নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি জনগণের রায়ের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে সারাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব চলছে। বিশেষ করে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সংসদীয় উপায়ে সমস্যার সমাধান এখন কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ সরকার বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে। সংস্কারের জন্যই মানুষ ভোট দিয়েছে, এখানে ছলচাতুরী করে অন্য খাতে প্রবাহিত করার কোনো সুযোগ নেই। রাজপথেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।”
সবশেষে তিনি ঘোষণা করেন, বিভাগীয় সমাবেশগুলোর পর অক্টোবর নাগাদ রাজধানী অভিমুখে ‘গণসমাবেশ’ বা মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হবে। জনগণের সমস্যা সমাধানে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা দাবি আদায় করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।