অর্থমন্ত্রী: ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণা বাস্তবায়ন করতে চাই

দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রবিবার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরওয়ার্ড: রেইজ-২ এর উদ্বোধন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বরিশালের শীতল পাটিকে ডিজাইন সাপোর্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া গেলে এটি জিডিপিতে বড় অবদান রাখবে। এছাড়া থিয়েটার, খেলাধুলা এবং সঙ্গীতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।     

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এখন থেকে সরকারি কোনো প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে বাস্তব সুফল এবং পরিবেশগত সুরক্ষার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই সরকার এ ধরনের নীতিগত অবস্থান নিয়েছে।”

অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্পগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা কিংবা বাতিলের তালিকায় রয়েছে এবং সরকারের লক্ষ্য এখন এমন প্রকল্প গ্রহণ করা, যা সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে জানায় তিনি।

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন জাতীয় অর্থনীতির অংশীদার হতে পারে, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে পিকেএসএফ-এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।”

তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরো বৈচিত্র্যময় করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পিকেএসএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানায়, পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীদের সরাসরি অর্থ বিনিময়ের (ক্যাশ ট্রান্সফার) পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে।  

একইসঙ্গে কৃষকদের সরাসরি ইনপুট সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজমা মোবারেক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডাইরেক্টর ড. গেইল এইচ. মার্টিন। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, পিকেএসএফ কর্মকর্তাসহ আরএআইএসই প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।