স্বর্ণের কানের দুলের লোভে গৃহশিক্ষিকাকে হত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম (৫৫) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নিখোঁজের একদিন পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত মরিয়ম বেগম পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি নিয়মিত ছাত্রীর বাসায় পড়াতে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথীলাকে পড়াতেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ছাত্রীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক চন্দ্রকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।“

নিহতের বড় ছেলে মারুফ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “আমার মা তাদের বাসায় পড়াতে যেতেন। কোনো শত্রুতা ছিল না। স্বর্ণের লোভেই আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমি খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও নারীদের অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে ক্রাইমসিন ইউনিট।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “এক স্বর্ণকারের কাছ থেকে নিহতের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”