ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মরদেহ রেখে স্বজনদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোমিন (৪৫) নামের এক অটোরিকশা চালককে মারধরের দুদিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজনরা। এ সময় তারা হত্যার বিচার দাবি করেন।

বুধবার (২০ মে) সকালে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের দড়িকান্দি এলাকায় এ বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

নিহত মুমিন সোনারগাঁয়ের সনমান্দি নাজিরপুর এলাকার মৃত হাকিম আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।

অভিযুক্ত শাহিন (৪৫) সোনারগাঁয়ের সনমান্দি দড়িকান্দী এলাকার মৃত নশ্বর মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে দুপুরে দড়িকান্দি স্ট্যান্ডে অটোরিকশার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. মোমিন (৪৫) নামের এক আটোরিকশা চালককে শাহীন (৪০) নামের আরেক ব্যক্তি বেধড়ক মারধর করেন। সেদিন শাহীনের হাতে মারধরের শিকার হয়ে মো. মোমিন গুরুতর আহত হন। পরে রাজধানীর নিউরোসাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার বিচারের দাবিতে  মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজনরা। এতে মহাসড়কের জাঙ্গাল থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ করে নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, লাইনম্যান শাহীন নিহত মোমিনের কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই টাকা না দেওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের ফলে আহত হয়ে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১৮ মে নিহত মোমিনের ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে শাহীনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, “নিহতের স্বজনরা  ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে  বিক্ষোভ করেছে। এ সময় যান চলাচলে কিছু সময়ের জন্য বাধা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।”

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে  উপস্থিত হই। পরে তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”