ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে সেফটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরের দিকে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া পশ্চিম পাড়ায় নির্মাণাধীন আলী মিয়া বাড়িতে সেফটিক ট্যাংকির পাইপ ফিটিং এর কাজ করছিলেন ৪ জন শ্রমিক।
এসময় দশফুট গভীরে নামেন ধর্ম তীর্থ গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক আরমান মিয়া (২১) গলানিয়া পশ্চিম পাড়ার ইমাম হোসেন (৩৪) একই এলাকার হৃদয় মিয়া (৩২) ও মেহেদী হাসান।
তারা সেফটিক ট্যাংকিতে নামার পরপরই কারো কোনো শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ এসে একে একে চারজনের মরদেহ বের করে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
এ ঘটনায় নিহত আরমানের চাচা আব্বাস আলী বলেন, “বাড়ির মালিকের চরম গাফিলতি ছিল। কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই ১০ ফুট গভীরের সেফটিক ট্যাংক স্থাপন করেন। যেখানে নেমে ৪ জন প্রাণ হারায়। আমরা এই ঘটনার জন্য বাড়ির মালিক আলী মিয়ার গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
নিহত হৃদয় মিয়ার শাশুড়ি সালমা আক্তার এ ঘটনার জন্য বাড়ি মালিক আলীমকে দায়ী করেন।
কালিকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাঈদ হোসেন জানান, ঘটনা জানামাত্র আমি ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে, সেফটিক ট্যাংকের ভেতর অক্সিজেনের অভাব অথবা কোনো গ্যাসের প্রভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে এসে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। পরে নিহত ৪ জনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেফটি ট্যাংকের ভেতর বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের আক্রান্ত এবং অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
সরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক আলী মিয়া পলাতক রয়েছেন। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।