সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান ও রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো.রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রবিবার (৩ মে) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে কেবিনেট সচিব ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের বিষয়টি সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ নিজে।
রিট খারিজের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “অন্তবর্তী সরকারের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তদন্ত চেয়ে রিট করার জন্য যে এখতিয়ার, সেটির সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিটকারীরা নন। এটি রাষ্ট্রের কাঠামোর সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একই বিষয়ে রিট খারিজ হয়েছিল, একই বিষয়ে দ্বিতীয়বার রিট করায় তা খারিজ করা হয়। এছাড়া রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই রিট করা হয়েছে বলে জানায় অ্যাটর্নি জেনারেল।”
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানায় রিটকারী আইনজীবীরা।
এর আগে, শপথ ও এই সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। ওই রিট আবেদন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও এই সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
একইসঙ্গে, হাইকোর্টের এ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীর লিভ টু আপিলটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এরপর আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করা হয়।