বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরদিনই নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের আসছে সুখবর

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামের চাপ থেকে রেহাই দিতে আবাসিকের প্রথম শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আর বাড়তি দাম কার্যকর থাকবে না। তারা আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। 

বৃহস্পতিবারের (৪ জুন) মধ্যেই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত বাড়তি দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার বিইআরসির কাছে এই আবেদন জমা দেয় তারা। বিইআরসি সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সব কোম্পানির পক্ষ হয়ে দুই শ্রেণির দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। এখন আলাদা করে সব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

এর আগে গতকাল বুধবার (৩ জুন) পাইকারি ও খুচরা, দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম একযোগে বাড়ানো হয়। এর ফলে গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপরই বাড়তি দামের চাপ তৈরি হয়েছিল। ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫%, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬% এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮% বাড়ানো হয়েছিল, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম দাম বাড়ানো হয়েছিল ‘লাইফলাইন’ শ্রেণিতে। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং সাধারণত বাসায় একটি ফ্যান ও একটি বা দুটি বাতি ব্যবহার করে থাকেন। নতুন দরে তাদের প্রতি ইউনিটে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬৯ পয়সা। পিডিবি শুরুতে এই শ্রেণির দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে নিম্ন আয়ের এসব গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭৮১ কোটি টাকা আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়।

লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট): নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বেশি। এর ফলে মাসে তাদের বিল বাড়ত ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। দাম সংশোধন করা হলে তারা আগের দাম অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা রেটেই বিল দিতে পারবেন।

প্রথম ধাপের গ্রাহক (০-৭৫ ইউনিট): এই শ্রেণির ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৯২ পয়সা বেশি। এতে মাসে বিল বাড়ত ৬৯ টাকা। এখন দাম সংশোধন করা হলে তাদের জন্য আগের দাম অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকবে।

সাধারণত একাধিক বাতি ও একটি বা দুটি ফ্যান ব্যবহার করা দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ফলে নতুন এই সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে দেশের একটি বিশাল অংশের প্রান্তিক গ্রাহক বাড়তি বিলের বোঝা থেকে রেহাই পাবেন।