ভূগর্ভস্থ পানির অতি ব্যবহারে খুলনা অঞ্চলে বাড়ছে তাপমাত্রা

খুলনা অঞ্চলের বোরো মৌসুমে সেচের অন্যতম ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। সুপেয় খাবার পানির জন্যও ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে পানির লেয়ার নেমে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে তাপমাত্রাও বাড়ছে। এক সময় নাচোলভিত্তিক আবহাওয়া আলোচনায় ছিল। বলা হতো উত্তরবঙ্গ মরুকরণের দিকে ধাবিত। কিন্তু সে আলোচনা এখন হয় না। কারণ সেখানের পরিবেশ বদলেছে। কিন্তু এখন আলোচনায় চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল। কারণ গরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এ জেলাতেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তীব্র গরমে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, মৎস, পানি প্রতিবেশ ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট সাম্প্রতিক তাপদাহ আরও প্রকট করে তুলেছে। গত ২৫ বছরে খুলনা অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়েছে। ২০১১ সালে এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ছিল ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ২০২৪ সালে সেই তাপমাত্রা রেকর্ড ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ২০২০ সালের ১ জুন সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৩ ডিগ্রি, ২ জুন সর্বোচ্চ ৩৫.৫ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৬.৪ ডিগ্রি, ৩ জুন সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি এবং ৪ জুন সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৮.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। ২০২৬ সালের ১ জুন সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৭.৬ ডিগ্রি, ২ জুন সর্বোচ্চ ৩৭.২ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৮.৫ ডিগ্রি, ৩ জুন সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৮.২ ডিগ্রি এবং ৪ জুন সর্বোচ্চ ৩৭.৫ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। আর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ১২৮ মিমি, মে মাসে ১০২ মিমি বৃষ্টি হয়। জুন মাসে এখনও বৃষ্টি হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ১২ মিমি, মে মাসে ১৮৬ মিমি, জুন মাসে ৭৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৩ সালের জুন মাসে ২২৮ মিমি ও ২০২৪ সালের জুন মাসে ৬৩ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছিল।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রায় হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি, মৎস্যসহ উৎপাদন খাত। তাই এখনই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বসবাস করছে দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় এলাকার মানুষ। সেইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে তাদের জীবন ও জীবিকা। লবণাক্ততার কারণে কৃষক তার জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না, হালের পশু ও অন্যান্য গৃহপালিত পশুর খাদ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে উপকূলের চাষযোগ্য জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। লবণাক্ততা অবশ্য উজানের পানির প্রবাহ কমের কারণে। এরসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন তেমন একটা বলা যায় না। তবে, সাগর থেকে উঠে আসা মেঘমালা সুন্দরবনের ওপরে এসে প্রতিনিয়ত বর্ষণ হওয়ার কথা। সুন্দরবনে নেই বড় গাছ, নেই গাছের ঘনত্ব। এ সব কারণে সুন্দরবনে নেই নিয়মিত বৃষ্টি। আর জলবায়ুবহনকারী মেঘমালাও সুন্দরবন অতিক্রম করার পর গাছপালাহীন জনবসতীতেও বৃষ্টি ঝরায় না। কারণ তাপপ্রবাহে মেঘমালার জলীয়বাস্প মিলিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর যশোর ঝিনাইদহসহ খুলনা অঞ্চলের মানুষ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। সেচে প্রচুর পানি ব্যবহার হয়। খাবার পানির জন্য ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। ফলে পানির লেয়ার নেমে যাচ্ছে। আর গাছপালাও কমছে, কমছে পুকর। নদ নদী শুকিয়ে গেছে। প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হওয়ায় ভূগর্ভে পানি রিফিল হয় না।

২০০৯ সালের আইলার পর থেকে গত ১৫ বছরে এক ডজনের বেশি দুর্যোগের কবলে পড়েছে উপকূল। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’, ২০১৩ সালের ‘মহাসেন’, ২০১৫ সালের ‘কোমেন’, ২০১৬ সালের ‘রোয়ানু’, ২০১৭ সালের ‘মোরা’, ২০১৯ সালের ‘ফণী’, ২০১৯ সালের ‘বুলবুল’, ২০২০ সালের ‘আম্পান’, ২০২১ সালের ‘ইয়াস’, ২০২২ সালের ‘অশনি’ ও ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’, ২০২৪ রেমাল।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান জানান, খুলনায় ২০২৪ সালের ১ মে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রেকর্ড ছিল ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৫ এপ্রিল এ রেকর্ড ছিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  তিনি বলেন, খুলনায় ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল ও ২০০২ সালের ২০ মে ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

ঘন-ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ, চিংড়ি ঘেরে উঁচু বাঁধ না দেয়া, নদী প্রবাহ আটকে দেয়া, পুকুর ভরাট ও সরকারি খালগুলো বেদখলের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানির তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। সাধারণত শীত মৌসুম থেকে বর্ষা আসার আগ পর্যন্ত একটা লম্বা সময় এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয় উপকূলবাসীকে।

বর্ষা মৌসুম শেষে এবারও উপকূলীয় জনপদে লবণাক্ততার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রাকৃতিক পানি প্রতিবেশ ও স্থানীয় কৃষির বিদ্যমান সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। ২০০৯ সালের প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাস আইলার পর থেকে এই এলাকার প্রাকৃতিক পানির জলাধারসহ অসংখ্য গভীর, অগভীর নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত দেড় দশকে পানির সংকট তীব্রতর হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এ অঞ্চলে কয়রার শাকবাড়িয়া, বেদকাশি, কয়রা সদর, সাতক্ষীরার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী, রমজাননগর, তালার বিভিন্ন গ্রাম, বাগেরহাট সদর, মোংলা, শরনখোল এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সব এলাকার বেশিরভাগ জলাশয়, খাল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্রতর।

কয়রা-পাইকগাছা মূলত উপকূলীয় এলাকা। গত তিন-চার দশকে এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও দুর্যোগে মানুষের কর্মসংস্থান কমে গেছে। প্রায় ৮০% কর্মজীবী মানুষ কাজের জন্য এলাকা ছেড়েছে। তবে মানুষ এখন কৃষিতে ফিরতে চায়।

এ অবস্থায় বিষেষাজ্ঞরা জানান, জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত ক্ষয়-ক্ষতি বিশেষত হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে করা হয়। কিস্তু দীর্ঘসময় নিয়ে ঘটে যাওয়া নিরব দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপণ ও অর্থায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নেই। আবার এই ক্ষয়-ক্ষতিও দুই ধরনের Economical and Non Economical Loss & Damages সরকারি বেসরকারি সকল পর্যায়ে আমাদেরকে দুটি ইস্যুকেই বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। এবং এর দালিলিক প্রমাণও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে উপস্থাপন করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৬ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৮১%-এরও বেশি জমি অর্থাৎ ১লাখ ৫৩ হাজার ১১০ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় রূপ নিয়েছে। আর পতিত জমি রয়েছে ৪০ হাজার ৯৮১ হেক্টর। বন্যা, খরা ও জলাবদ্ধতার পাশাপাশি মাটি ও পানির লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। এতে ক্রমেই আমন ধানের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গত চার বছরের ব্যবধানে আমন ধান উৎপাদন কমেছে ৩৩ হাজার টন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে এ জেলায় রোপা আমন চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬ টন, ২০২০-২১ মৌসুমে উৎপাদন হয় ২লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টন, ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদন হয় ২লাখ ৪৬ হাজার ৭২৮ টন এবং ২০২২-২৩ মৌসুমে জেলায় আমন চাল উৎপাদন হয় ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৮ টন। সেই হিসাবে ২০১৯-২০ মৌসুমের তুলনায় ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩৩ হাজার ২৩৮ টন উৎপাদন কমেছে।

সুন্দরবন ঘেষা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার বাসিন্দা হুদা মালী বলেন, “খরা, ঝড়, বৃষ্টি ও নদীভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আইলার পর থেকে গোটা এলাকা উদ্ভিদশূন্য। লবণাক্ততার কারণে সব গাছ মারা গেছে। এলাকায় বসবাস করা খুবই কষ্টের। সব সময় সুপেয় পানির অভাবে থাকতে হয়।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, প্রতি লিটার পানিতে শূন্য থেকে ১ হাজার মিলিগ্রাম লবণ থাকলে সে পানি পানযোগ্য। কিন্তু উপকূলে প্রতি লিটার পানিতে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার মিলিগ্রাম লবণ রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায়ও। ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা উপকূলের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের সময় অধিক শীত, গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম এবং বর্ষায় অতিবৃষ্টির ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসে নদীভাঙনে এসব এলাকার বহু মানুষ উদ্বাস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রভাবের কারণে বর্তমান সময়ে সাতক্ষীরার মানুষ রেকড পরিমাণ তাপমাত্রা অনুভব করছে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, “সাধারণত ধান চাষের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। কিন্তু এর বেশি তাপমাত্রায় ধান উৎপাদন কমছে। বর্তমানে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়াচ্ছে। এতে ধানের পরাগায়ণ বাধাগ্রস্থ্য ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।”

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটে ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। ধান কর্তন তাপ প্রবাহর কবলে পরে। এ কারণে ধানও ক্ষতির মুখে পড়ছে। আর তাপপ্রবাহের কারণে বাগেরহাটে সবজি চাষ বিলম্বিত হয়েছে। মে মাসের শুরুতে বিভিন্ন সবজি বাজারে আসার কথা।

মৃত্তিকা বিভাগ খুলনা সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি জমির মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অনেক কৃষিজমি লবন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমির লবণাক্ততা বাড়লে কৃষি আয় বছরে ২১% কমে যাবে। উপকূলীয় অঞ্চলের ৪০% কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়বে। এতে এই অঞ্চলের দুই লাখ ৪০ হাজার কৃষকের বাস্তুচ্যূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধান ছাড়া অন্যান্য শস্য, যেমন পাট, গম, ভুট্টা, মটর, ছোলা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা সূত্রে জানা গেছে, বায়ুমণ্ডলের ৯৯.৩% কার্বন প্রাকৃতিক। আর জ্বালানির মাধ্যমে মানুষ থেকে আসে মাত্র দশমিক ৫.৭ শতাংশ। এটাই আমাদের উদ্বেগের জায়গা। বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে পলিথিন উৎপাদন, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো থেকে কার্বন নিঃসরণ বেশি। দেশে ১০০ টন পলিথিন ব্যবহার হয়। যার ৫০% দেশে উৎপাদন হয়। আর বাকি ৫০% বাইরে থেকে আসে। এ ব্যবহার বন্ধ করতে অভিযান, জেল জরিমানা করা হচ্ছে। পৃথিবী তার কক্ষপথ পরিবর্তন করলে জলবায়ু পরিবর্তন হবে। ০.৭% কার্বনডাই অক্সাইড মনুষ্য সৃষ্ট কারণে হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “কৃষিভিত্তিক খুলনা অঞ্চলের কৃষিসহ বিভিন্ন কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো প্রয়োজন। এ পানির লেয়ার নেমে যাওয়া গাছ কমে যাওয়া, পুকুর ভরাট করাসহ নানা কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। এ নিয়ে আমাদের গবেষণা নেই। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঠিক কারণ শনাক্ত হচ্ছে না। পদ্মা ব্যারেজ স্থাপিত হলে এ অঞ্চলের লবণাক্ততা হ্রাস পাবে যদি নির্মিত পদ্মা ব্যারেজের ব্যবস্থাপনা সঠিক হয়।”

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা 'অ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয় ক্ষতি নিরুপনে কেয়ার বাংলাদেশের সহায়তায় Climate and Disaster Risk Finance and Insurance (CDRFI) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে 'অ্যাওসেড'। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষয়-ক্ষতির প্রমাণ ভিত্তিক তথ্য বিভাগীয়, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে উপস্থাপিত হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।