সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালীতে বনজীবী নারী, নারী জেলে, নারী কৃষক, বাঘবিধবা ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের নারীদের নিয়ে কমিউনিটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে “জলবায়ু, নারী ও নারী স্বাস্থ্য” শিরোনামে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন “সান্তাল” এর উদ্যোগে, “বনজীবী নারী উন্নয়ন সংগঠন” ও “সোশ্যাল অ্যাকশন ফর ইয়ুথ অ্যালায়েন্স-সায়া”র সহযোগিতায় এ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং বাল্যবিবাহের মতো বাস্তব সমস্যার কথা।
এসব নারীদের অভিযোগ, লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে চর্মরোগ, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ, শারীরিক দুর্বলতা, উচ্চ রক্তচাপ, পানিশূন্যতা, হাঁটুর ব্যথা ও কোমর ব্যথার মতো সমস্যা বাড়ছে। নিরাপদ পানি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় এসব সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিচ্ছে। অনেক এলাকায় পুকুর, খাল ও নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন জীবনই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। গোসল, কাপড় ধোয়া, রান্না এবং খাবার পানির কাজেও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
আলোচনায় বাল্যবিবাহের বিষয়টিও উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে নারীস্বাস্থ্যের অবনতি, দারিদ্র্য, দুর্যোগ ও জীবিকার টানাপোড়েন অনেক পরিবারকে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য করছে। এর ফলে অল্প বয়সে মাতৃত্ব, অপুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য জটিলতা এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।
এসময় ভুক্তভোগী নারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অংশীজনদের উদ্দেশে, জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ নীতিতে নারীস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার; লবণাক্ততা ও জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার উদ্যোগ এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা বাড়ানোর ওপর জোর দাবি জানান।
নারী অধিকার কর্মী শেফালি বিবি বলেন, “বিভিন্ন বড় বড় সভা, সেমিনার ও কর্মসূচিতে সুন্দরবন নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিলে আমাদের বলা হয়, সুন্দরবন নিয়ে কথা বলার সময় মাত্র দুই মিনিট। অথচ সুন্দরবন ও উপকূলকে টিকিয়ে রাখতে যেসব নারী প্রতিদিন লবণাক্ত পানি, ঝড়, নদীভাঙন, জীবিকার অনিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের কষ্টের কোনো সীমা নেই। দুই মিনিটে আমাদের জীবনসংগ্রামের গল্প বলা সম্ভব নয়।”