বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় অবস্থিত সেঞ্চুরি মোটেল নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে বিপুল চন্দ্র পাল (৫০) নামে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে হোটেলের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং এরুলিয়া পালপাড়ার বাসিন্দা জীতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল হোটেলে ওঠেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষে যান। শনিবার দুপুরে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে নিশিন্দারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন ও সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিকল্প চাবি দিয়ে কক্ষটি খুলে বিছানার ওপর বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ দেখতে পায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি যৌন উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এসব আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হোটেলটির মালিক এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মিটুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।