দেশে নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে নতুন বাজেটে যুগান্তকারী এক ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার অনুমোদন এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ গতিশীল করতে 'অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো' ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান মেয়াদের নতুন সরকারের প্রথম এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা কমিয়ে এনে দেশে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যবসার আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে সম্পন্ন করার আইনি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশে নতুন কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদন করার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা বা দুই দিনের মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট পেশ করেন। নতুন এই বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
বিশাল এই ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামগ্রিক ঘাটতি বা ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক, উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশীয় বা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সরকার দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংস্থান করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যবসা সহজীকরণের এই নতুন আইন কার্যকর হলে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।