সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, গ্র্যাচুইটি, পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হয়েছে। এই নতুন নিয়ম ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন সুবিধা পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে পেনশনের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ৫ বছর চাকরিকালের জন্য ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন দেওয়া হবে। তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধাটি মূলত চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা বা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
চাকরিকাল কমিয়ে আনার কারণে আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) হিসাবেও নতুন বিন্যাস করা হয়েছে। এখন থেকে ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক পাওয়া যাবে। এছাড়া, কোনো কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তাঁর পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।
পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থার নিয়মাবলীতেও বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা দেওয়ার শর্তটি শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত নারী সরকারি কর্মচারীর স্বামীও এখন থেকে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।
সংশোধিত নীতিমালার অন্যতম প্রধান বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে ছুটি নগদায়ন সুবিধায়। আগে সরকারি কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ১২ মাসের অব্যবহৃত ছুটি নগদায়ন করতে পারতেন, যা বাড়িয়ে এখন ১৮ মাস করা হয়েছে। এর ফলে কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার সময় আগের চেয়ে অনেক বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারির সময়ে যারা পিআরএল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি)-এ ছিলেন, তারাও এই বর্ধিত সুযোগ-সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।