কোস্টগার্ড ও বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১  

সুন্দরবনের বনদস্যু গ্রুপ ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। খুলনা বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় গুলি লেগে শওকত সরদার ওরফে সাকা সরদার নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম ও দুলাল আহত হয়েছে। এদেরকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। 

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কোস্টগার্ড। দুপুরে দুলাল নামে আরও এক দস্যুকে এ হাসপাতালে আনা হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়রা ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন শিবসা নদীতে বিশেষ অভিযানে থাকা কোস্টগার্ডের বোট টাইফুন-১৭ এর মুখোমুখি হয় জলদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র দুটি কাঠের বোট। জলদস্যুরা কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। আত্মরক্ষার জন্য কোস্টগার্ড পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে ডাকাত দলের একটি বোট ডুবে যায় এবং অন্যটিতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে গোলাবারুদের স্প্রিন্টারে ডাকাত দলের সদস্য শওকত সর্দার নিহত হয়। 

এ সময় দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ওরফে রোজুল গাজী ও দুলাল স্প্রিন্টারের আঘাতে আহত হয়। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

মহেশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিউল ইসলাম বনদস্যু দুলাভাই বাহিনী প্রধান। এক সময় সুন্দরবনের ত্রাস ‘ইলিয়াস বাহিনী’র ইলিয়াস মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল নতুন দল গঠন করে। স্থানীয় লোকজন এ বাহিনীর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’। 

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “সুন্দরবনে কোষ্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক বনদস্যু নিহত এবং একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নিহতের লাশ কোস্টগার্ড কয়রা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।” 

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। কোস্টগার্ড বিস্তারিত জানেন। 

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্টগার্ডের রাতভর বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। সকালে বাহিনী প্রধানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযান চলমান আছে।