বগুড়ার ‘গরীবের ডাক্তার’ মিশু কারামুক্ত

বগুড়ায় ছয়দিন হাজতবাসের পর জামিনে ছাড়া পেলেন ‘গরীবের ডাক্তার’ খ্যাত ডা. সামির হোসেন মিশু।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌশিক আহমেদ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

অ্যাডভোকেট তানজিম আল মেজবা জানান, রবিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ডা. মিশুর জামিন শুনানি করা হয়।

আইনজীবী আদালতকে জানান, ডা. মিশু ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তিনি কোনোদিন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেননি। তাই বাদীকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ডা. মিশুর জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুরে তিনি বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। এ খবরে ডা. মিশু ভক্তদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় মকটেল আইসল্যান্ড নামের এক বিনোদন কেন্দ্রে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। তার আইনজীবী তানজিম আল মেজবা ও পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার মো. আরাফ নামের এক ব্যক্তি গত ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সদর থানায় একটি মামলা করেন। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৭২ জনকে আসামি করা হয়। ডা. মিশু এ মামলার একজন আসামি।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। তিনি আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ডা. সামির হোসেন মিশু তাকে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়ে বের করে দেন।

এদিকে, ডা. মিশু গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় মকটেল আইসল্যান্ডে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রাত ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ চিকিৎসকদের ইন্ধনে স্থানীয় যুবদল নেতারা তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে ‘মব’ থেকে বাঁচিয়ে গ্রেপ্তার করে। রাতেই তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে ডা. মিশুকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

প্রসঙ্গত, ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া মহানগরীর জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের বগুড়া শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ইনস্টাক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।

ক্রীড়ামোদি ও বিনোদন প্রিয় ডা. মিশু দলমত নির্বিশেষে সকলের ও গরীবদরে ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ জন্য বগুড়ায় তিনি‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত। গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়।