প্রতিবছর এই সময়ে ফিরে আসা এক আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। তবে এখন আর শুধু বর্ষা মৌসুমেই নয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে সারা বছরই। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমাদের দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর লক্ষণেও এসেছে বড় ধরনের রূপান্তর। ডেঙ্গু ভাইরাসের এই রূপ পরিবর্তনের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে এর ভয়াবহতা আঁচ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতনতা ও প্রতিরোধ কৌশলেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
বদলে যাওয়া ডেঙ্গুর ৫ নতুন লক্ষণ
চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণ করে বলছেন, ডেঙ্গুর আগের চিরাচরিত রূপ এখন আর তেমন দেখা যাচ্ছে না। আগে তীব্র জ্বর, চোখে ব্যথা, পিঠ-অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা (হাড়ভাঙা জ্বর) এবং শরীরে লালচে র্যাশ দেখে ডেঙ্গু চেনা যেত। কিন্তু এখনকার ডেঙ্গু অনেক বেশি বিপজ্জনক।
লক্ষণহীন বা মৃদু জ্বর: অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সামান্য একটু জ্বর বা গা ম্যাজম্যাজ করার দু-এক দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে রোগীর অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটছে।
জ্বর কমলেই আসল বিপদ: আগে মনে করা হতো জ্বর কমে যাওয়া মানেই রোগী সুস্থ হচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জ্বর কমে যাওয়ার পর বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হলেই আসল জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জ্বর যেদিন কমে, সেদিন থেকে পরবর্তী তিন দিন রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্লাটিলেট দ্রুত ড্রপ করার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এই সময়ে নিয়মিত প্লাটিলেট কাউন্ট করা জরুরি।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হওয়া: নতুন চরিত্রের ডেঙ্গুতে লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্ক খুব দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে জ্বরের চেয়েও বমি, তীব্র পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলো এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।
লিভারের ক্ষতি ও জন্ডিস: ডেঙ্গু রোগীর প্রচুর বমি হওয়া এবং পেটের ডানপাশের ওপরের দিকে বেশি ব্যথা হওয়া মূলত লিভার আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ, যা পরবর্তীতে জন্ডিসে রূপ নিতে পারে। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডাবল ইনফেকশন ও শক সিনড্রোম: ডেঙ্গুর মূলত চারটি ভেরিয়েন্ট (ডেন - ১, ২, ৩, ৪) আছে। অতীতে কোনো একটি ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার অন্য ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হলে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অত্যন্ত মারাত্মক।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
জ্বর হলেই কোনো ধরনের অবহেলা না করে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওআরএস (ওরস্যালাইন) এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খেতে হবে। সেই সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।