গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার এন্ড কোং লিমিটেড নামে এক পোশাক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারখানার পঞ্চম তলায় সুইং সেকশনের এক নারী শ্রমিক মাথা ঘুরে উৎপাদন ফ্লোরে পড়ে যান।
এ সময় একে একে আরও কয়েকজন বমি শুরু করেন এবং মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের হাসপাতালে পাঠায়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের কালার এন্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কর্মীরা কারখানার প্রধান ফটকে উপস্থিত হন। সাংবাদিককরা ভিডিও করার সময় কারখানার লোকজন স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক বসুন্ধরার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, এর আগে, কারখানার পঞ্চম তলায় নারী শ্রমিক লিজা বেগমের (৩৬) মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ জুন তারা কারখানা অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। আজ একই ফ্লোরে এক নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কি কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হচ্ছেন, তা কেউ বলতে পারেননি।
শ্রমিকরা আরও জানান, হঠাৎ তাদের এক নারী সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একে একে অন্যান্য শ্রমিকদের বমিসহ মাথা ঘোরা শুরু হয়। অনেকে চিৎকার শুরু করলে কারখানার অন্য শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ফ্লোর থেকে নিচে অ্যাসেম্বলি পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেন। এসময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আঘাত পেয়ে আহত হন।
দৈনিক বসুন্ধরা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান সবুজ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।”
কালার এন্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, “অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ব্যবস্থাপনায় মাওনা চৌরাস্তা আলহেরা হাসপাতালের পাঠিয়ে শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুল বুঝে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন নেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর ওই সাংবাদিকের ফোনে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নে তিনি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে ছুটি দেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা তাদের মতো করে কারখানা থেকে বের হয়ে গেছে।
মাওনা চৌরাস্তার আলহেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আবুল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে পেটে ব্যাথা, বমি ও মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি জানতে পেরে শ্রমিকদের সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।