টানা বৃষ্টিতে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পুরো উপজেলাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নদীবন্দর) নির্মল কুমার রায় জানান, লঘুচাপ ও সতর্ক সংকেতের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জেলার সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মনপুরা থেকে ভোলা, ঢাকা ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে আসা যাত্রীদের ফিরে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে কোনো লঞ্চ না আসায় ঢাকাগামী যাত্রীরাও আটকা পড়েছেন।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লঘুচাপের কারণে সমুদ্র ও নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না, আবার অনেকের ঘরে রান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজিরহাট, সাকুচিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া ও মনপুরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম।

ভোরের জোয়ারে চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চলও দুই থেকে তিন ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, বর্তমানে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা কমাতে মনপুরা উপকূলে খাল খননের একটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।