প্রবল স্রোতের মধ্যে স্থানীয়দের সিএনজি কাঁধে তুলে নদী বা খাল পার হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছিল, ভিডিওটি চট্টগ্রামের এবং সিএনজিটিতে এক গর্ভবতী বা ডেলিভারি রোগী ছিলেন। তবে ফ্যাক্ট-চেক ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছড়িয়ে পড়া সংবাদ ও দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য।
ফ্যাক্ট-চেকিং অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি চট্টগ্রামের নয়, বরং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙাঝিরি পাহাড়ি খাল এলাকার। তা ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই সিএনজিতে কোনো প্রসূতি বা ডেলিভারি রোগী ছিলেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা খালের পানির মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা কাঁধে তুলে পার করছেন। পানির প্রবল স্রোত ঠেলে সিএনজিটি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে তীরে তোলা হয়। তবে পুরো ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে কোনো যাত্রী বা রোগীকে দেখা যায় না।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যোগাযোগ করা হলে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, ঘটনাটি তার ইউনিয়নের রাঙাঝিরি পাহাড়ি খালের। এটি দুই ইউনিয়নের মাঝামাঝি সংযোগস্থল, যার দুই পাশে সড়ক থাকলেও মাঝখানে কোনো সেতু নেই। ফলে বর্ষার পাহাড়ি ঢলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি হয়। তবে সিএনজিতে কোনো ডেলিভারি রোগী থাকার দাবিটি একেবারেই ভিত্তিহীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরই প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে দেখেছে। তিনি বলেন, “ভিডিওতে থাকা সিএনজিতে কোনো ডেলিভারি রোগী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ নয়।”
প্রশাসন জানিয়েছে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়, এমন অসত্য বা ভুল তথ্য যুক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।