টানা বৃষ্টি আর মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে তা দ্রুত বাড়ছে।
এদিকে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একইসঙ্গে বেড়েছে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটসহ দেশের ৮ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশংকা করা হচ্ছে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ অফিস (ডিআরআরও) জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৬০টি টিলা এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে পাউবো এক বুলেটিনে জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেটের নদ-নদীর পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
বিকেল ৩টার বুলেটিনে জানানো হয়, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার এবং সিলেট পয়েন্টে ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানিও এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ায়ার পানি আমলসিদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে ১১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানের পানি দ্রুত মেঘনা অববাহিকায় নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম। সংস্থাটি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিভাগের কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।”
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।”
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। কোথাও পানি জমলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) পিংকি সাহা বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুছ বুলবুল জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।