দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় স্থিতিশীল থাকার পর দেশে মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট-টিএফআর) বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, টিএফআর ২.৩ থেকে বেড়ে ২.৪ হয়েছে। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধি সংখ্যায় সামান্য হলেও ভবিষ্যতে জনসংখ্যা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতির ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ে জনবলসংকট এবং জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর ঘাটতি প্রজনন হার বাড়ার অন্যতম কারণ। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ আরও বাড়বে।
বিবিএস ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন নারী গড়ে ২.৪টি সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টিএফআর ২ দশমিক ৩-এ স্থির ছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশে মোট প্রজনন হার ঊর্ধ্বমুখী হলো।
জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, প্রজনন হার বৃদ্ধির অর্থ শুধু বেশি শিশু জন্ম নেওয়া নয়; এর সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি ঘন ঘন গর্ভধারণের কারণে মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিদপ্তরের প্রায় ২৭% পদ শূন্য রয়েছে। মাঠপর্যায়ে অনেক পরিবারকল্যাণ সহকারীকে একাধিক এলাকার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর সরবরাহে ঘাটতি থাকায় অনেক দম্পতি প্রয়োজনের সময় এসব সেবা পাচ্ছেন না।
সর্বশেষ জরিপে গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হারও কমেছে। ২০১৯ সালে যেখানে বিবাহিত নারীদের মধ্যে গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ছিল ৬২.৭%, ২০২৫ সালে তা কমে ৫৮.২% এ নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে আরো কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে জনবল নিয়োগ, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তরুণ দম্পতিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মোট প্রজনন হারকে প্রতিস্থাপনযোগ্য স্তর ২ দশমিক ১-এ নামিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।