বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলায় “সোনালি আঁশ” পাটের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ও বাম্পার ফলনের কারণে গত বছর থেকেই কৃষকেরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। তাই এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পাট চাষ করেছেন।
এলাকাবাসীরা মনে করছেন, জেলায় পাট চাষের আগের সেই সোনালি দিনগুলো আবারো ফিরতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা, বাঙালি ও সুখদহ নদী রয়েছে। ফলে এ উপজেলার মাটি উর্বর বেলে দোআঁশ। যা পাটচাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই দীর্ঘদিন থেকেই এ উপজেলা পাটচাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ হয়। গত কয়েক বছর কৃষকেরা বাজারে পাটের দাম ভালো পাননি। উচ্চমূল্যের শ্রমিক নিয়ে বাজারে কমদাম পেয়ে কৃষকেরা পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তারা দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে পাট চাষ করেছেন।
চাষিরা জানান, পাটগাছগুলো বেশ লম্বা হয়েছে। কোথাও পাটগাছ ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। পাটগাছে আঁশও বেশ ভালো হয়েছে। কেউ কেউ পরিপক্ব পাট গাছ কর্তন করা শুরু করে দিয়েছেন। কেউবা পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে তা বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের কৃষক লেবু আকন্দ জানান, যমুনা নদীর কিনারায় গত বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। বাজারে বিক্রি করে বেশ ভালো লাভবান হয়েছেন। এ বছর তাই আগের চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট গাছ প্রায় দুই মানুষের সমপরিমাণের বেশি লম্বা হয়েছে। তাই পাটগাছ কর্তন করা শুরু করে দিয়েছেন। বাজারে সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে চার হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।
তার মতে, তাদের বাপ দাদাদের সোনালি আঁশের সেই সুদিন আবারো ফিরতে শুরু করেছে।
সারিয়াকান্দির পাট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর তারা পাটের ভরা মৌসুমে মণ প্রতি ৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্রয় করেছেন। এ বছর সর্বোচ্চ ৫,৪০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাট বাজারে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানেও বাজারে পাট ৪,২০০ টাকা পর্যন্ত মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে। গত বছর যারা পাট ক্রয় করে রেখেছিলেন, তারা পাটে বাম্পার লাভ পেয়েছেন।
সারিয়াকান্দি কৃষি অফিসরে সূত্র জানায়, গত বছর এ উপজেলায় ৩,৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। চাষ হয়েছিল ৩১০৫ হেক্টর জমিতে। ফলন হয়েছিল হেক্টর প্রতি ২.৯ টন। এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, ৩,৭০০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে পাঁচ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে উৎপন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫০ হেক্টর জমির পাট কর্তন করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘‘নদীবেষ্টিত সারিয়াকান্দি উপজেলার মাটি বেলে দোআঁশ। তাই এ উপজেলার মাটি পাট চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গত বছর পাটের দাম এবং ফলন ভালো হওয়ায় তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। তাই এ বছর থেকে কৃষকেরা আবারো দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে পাট চাষ করা শুরু করে দিয়েছেন। কৃষকেরা বাজারজাত করে ভালো দাম পেয়ে বেশ লাভবান হচ্ছেন।”