প্রশ্ন কঠিনের অভিযোগ, 'নকলের সুযোগ' না পেয়ে কেন্দ্র ভাঙচুর

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে।

কেন্দ্র-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একদল পরীক্ষার্থী এ হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের কঠোর আচরণের কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছিল। আইসিটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে নকলের সুযোগ দাবি করে। দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাতে বাধা দিলে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে। পরে পরীক্ষা শেষে বহিরাগতদের নিয়ে কলেজে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রসচিব আরও জানান, এদিন কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের মোট ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন আইসিটি পরীক্ষায় অংশ নেন। হামলায় কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া দুটি এসি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একদল শিক্ষার্থী কলেজের সামনে জড়ো হয়। পরে আরও লোকজন এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। একপর্যায়ে কয়েক শতাধিক ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ভাঙচুর চালায়।

হামলায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ও পথচারীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ায় সবার পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, “উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে।“

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা শুরু থেকেই কঠোর আচরণ করছিলেন। এমনকি সময় জানতে চাইলেও পরীক্ষার্থীদের খাতা কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হতো। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন বলে তারা জানান।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“