প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে যায় টুঙ্গিপাড়ার বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। এতে বন্ধ থাকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবার মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে হয়েছে হাঁটু সমান পানি।
রবিবার (১২ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, গত ৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ওই মাদ্রাসার ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে পানি আটকে থাকায় বাড়ছে আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার একতলা ভবনেই চলে ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এর মধ্যে নূরানী বিভাগেই পড়াশোনা করে ২০০ শিশু শিক্ষার্থী। আর দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনার ৩০ শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। প্রতিবছর কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে থৈ থৈ করে। আর্থিক সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ।
শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতে নূরানী বিভাগটি সবার আগে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারছে না। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”
২য় শ্রেণির ছাত্রী হুজাইফা ইসলাম বলে, গত বছরের মতো এবারও আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। শিক্ষকরা আমাদের ক্লাস নিতে পারছেন না। আর আমরা খেলাধুলাও করতে পারছি না।
সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, “প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়। এই সময়টাতে নিরুপায় হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। তাই সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “মাদ্রাসা ও এতিমখানাটিতে জমে থাকা পানি শীঘ্রই নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। আগামীতে যাতে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে পানি জমতে না পারে সেজন্য স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”