জঙ্গলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে পরিচালিত গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি সেনা পরিবারে নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতি রোমান্থন করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এই গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি পায়ে হেঁটে গভীর ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন।

মহড়াকালে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত ‘অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেম’-এর কার্যপদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্বরত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রযুক্তিগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার নানা কৌশলগত দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সাধারণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে মিশে যান। দুর্গম জঙ্গলে দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের পাশে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসেই বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

পরবর্তীতে ফিল্ড কন্ডিশনে তাৎক্ষণিকভাবে কৌটার ভেতর মোম জ্বালিয়ে প্রস্তুত করা সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধকালীন খাবার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন তিনি।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছাকাছি এলে আমার শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে এবং মনে হয় যেন শৈশবে ফিরে গেছি।”

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় সংকট মোকাবিলা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বরাবরই পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। এই বিশেষ মর্যাদা ও আস্থা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও মর্যাদা ও সুনাম অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ও আধুনিকায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।