টানা বৃষ্টিতে খুলনায় ৮ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

টানা ভারী বৃষ্টিতে খুলনা বিভাগের চারটি জেলায় ৮ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইলের কৃষকদের ধান থেকে শুরু করে মাঠে চাষ করা সবজি পচে নষ্ট হচ্ছে। 

বিভাগের চারটি জেলায় ৩৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ক্ষতির প্রভাব ইতোমধ্যেই সবজি বাজারে দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা পোয়া বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতি কেজি মরিচের দাম ২৪০ টাকা। বিভিন্ন সবজির দামও দ্বিগুণ বেড়েছে। 

সবজি বিক্রেতা বাশার বলেন, ‘‘পোটল ১২০ টাকা কেজি দর হয়েছে। ঝিঙে ৯০ টাকা, কুষি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেরস ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাচকলার হালি ৪০ টাকা।’’ 

বাজার করতে আসা ক্রেতা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘‘৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বৃষ্টিতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।’’ 

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় ৫৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার, বাগেরহাটে ৪০ দশমিক ৪১ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৪১ দশমিক ৮২ এবং নড়াইলে ২৪ দশমিক ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসব জেলায় ১৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফসলের মধ্যে ৩৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতে পচে যাওয়া ফসলের মূল্য ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাগেরহাটে। এখানে প্রায় চার হাজার চাষী, বর্গা, প্রান্তিক চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুর রহমান জানান, জেলায় আমনের বীজতলা, আউস, গ্রীষ্মকালিন সবজি ও পান ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ জেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। লোকসান গুনতে হয়েছে ২ হাজার ৪৬৮ জন কৃষককে। 

সাতক্ষীরা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, ‘‘পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রসুলপুর, কামালনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় এই যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে। এছাড়া পানি আটকে যারা যত্রতত্র মাছ চাষ করছে এগুলো অপসারণ করতে হবে।’’